অতীতে যতসব অদ্ভুত চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলন ছিল

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যে জীবনে কখনো অসুস্থ হয়নি৷ কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এতটাই উন্নতি লাভ করেছে যে আপনার যত খুঁটিনাটি রোগ হোক না কেন তা খুব দ্রুত সারিয়ে তোলা সম্ভব৷

কিন্তু আপনি একটু চিন্তা করে দেখুন অতীতে চিকিৎসা বিজ্ঞান এত উন্নত ছিল না৷ আর উন্নত ছিল না ওষুধ ও৷

তাহলে তখন কঠিন রোগ ঠিক করার জন্য ডাক্তাররা কি করতেন? তারা এমন কিছু আজব-অদ্ভুত জিনিস ব্যবহার করতেন যা আপনি কখনোই করতে চাইবেন না৷

প্রিয় পাঠক আপনি কি আপনার শরীরের চর্বি কমানোর জন্য ফিতাকৃমি খেতে পারবেন? কী অবাক হচ্ছেন? তাহলে চলুন জেনে নেই অতীতে কি করা হতো চিকিৎসা বিজ্ঞানে৷

১) মস্তিষ্কের অসুস্থতা

মস্তিষ্কের অসুস্থতা চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বড় রোগ। মাত্র কয়েক বছর আগে এ রোগের চিকিৎসা আবিষ্কার হয়েছে।

কিন্তু আজ থেকে ১০০ বা ২০০ বছর আগে মস্তিষ্কের অসুস্থতার চিকিৎসা করা অভিশাপের চেয়েও কোন অংশে কম ছিল না। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা এমন ভাবে করা হতো যে তারা আর বেঁচেই থাকত না।

১৯৩৬ সালে আমেরিকায় ল্যাবটমি নামের এই যন্ত্রটি খুব বিখ্যাত ছিল। প্রত্যেক বছরে এই যন্ত্রের সাহায্যে প্রায় পাঁচ হাজার লোকের এই রোগের চিকিৎসা করা হতো।

এই চিকিৎসার জন্য রোগীকে প্রথমে এনেসথেসিয়া ইনজেকশন করা হতো। তারপরে তাদের চোখের উপরের অংশে ল্যবটমি ঢুকিয়ে দেওয়া হতো।

আর এতে ওই যন্ত্রের কাঁটাওয়ালা অংশ ব্রেইন পর্যন্ত পৌঁছে যেত৷ এটা করা হয়েছে ব্রেনের যে অংশ খারাপ হয়েছে যাতে সে অংশ ঠিক করা যায়।

কিন্তু এতে রোগী তো ঠিক হতো না বরং আরো বেশী অনেক পাগল হয়ে যেত। বেশিরভাগ সময় রোগী কষ্ট পেয়ে মৃত্যুবরণ করতো।

এ চিকিৎসার মাধ্যমে একজন রোগীকে ও ঠিক করা যায়নি। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে ল্যাবটমি নামের এই চিকিৎসা ব্যান করে দেওয়া হয়৷

২) ওজন কমানো

পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। তারা ওজন কমাতে কি না করে!

কেউ গ্রিন টি খায় আবার কেউ লেবুর শরবত খায়! কিন্তু ১৮০০ সালের দিকে মানুষকে ওজন কমানোর জন্য একটি ক্যাপসুল দেওয়া হতো।

ওই ক্যাপসুলে ফিতা কৃমির ডিম থাকতো আর যখন ঐ ক্যাপসুল পেটের ভিতরে যেত তখন ডিম থেকে ফিতাকৃমি বাহিরে চলে আসত। আর তারপর ওই ব্যক্তি যা খেত তাহার সব ক্যালোরি গুলি ওই ফিতাকৃমি খেয়ে ফেলত।

আর এতে করে মানুষ মোটা হতো না। কিন্তু যখন ফিতাকৃমির পেটে বসে জ্বালাতন করতো তখন সেটাকে বের করার জন্য আবার ব্যবস্থা নেয়া হতো।

ফিতা কৃমি কে পেটের রাক্ষস বলা হয়। এ গুলি কে বের করার জন্য আজ থেকে ২০০ বছর আগে মানুষকে একটি বিশাল আকৃতির ওষুধ খেতে হতো।

ওষুধে ফিতাকৃমিকে মেরে ফেলার বিষ থাকতো। যে ব্যক্তি তাকে খেয়ে ফেলতে পারতো সে বেঁচে যেত কিন্তু যে এটা গিলতে পারত না তার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হত।

৩) ডায়েট খাবার

পৃথিবীতে এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো আপনি বেঁচে থাকার জন্য খেতে পারেন। আর এসব খাবারের মধ্যে এমন খাবার রয়েছে যেগুলোতে সকল পরিমাণ নিউট্রিশন রয়েছে।

আর ওই খাবারগুলো যদি আমরা বেঁচে থাকার জন্য খায় তারপরও সুস্থ থাকতে পারবো। কিন্তু কিছু মানুষ রয়েছে যারা এমন খাবার খুঁজে যেগুলি খেলে সে চিকন হতে পারবে।

আর সাথে সাথে সুস্থ থাকতে পারবে। আর এই সমস্যা থেকে ১৯৩৬ সালে ডক্টর রবাট লিন একটি টনিক বানিয়ে ছিলেন যার নাম দিয়েছিলেন “দ্য লাস্ট চান্স ডায়েট”।

এটি কোন জাদু ছিল না এটা ছিল একটা টনিক। ডাক্তার লিনের মতে আপনি যদি এটি প্রতিদিন পান করেন তাহলে আপনার কিছু খাবারের প্রয়োজন থাকবে না।

আর আপনি মোটাও হবেন না। কিন্তু এ টনিকে ছিল প্রোলিন নামক এক প্রকার লিকুইড এতে খুব কম পরিমাণে নিউট্রিশন থাকতো।

এটাতে মাত্র ৪০০ ক্যালরি এনার্জি থাকতো। আমরা জানি একজন সুস্থ মানুষকে দৈনিক ২০০০ থেকে আড়াই হাজার ক্যালোরি খেতে হয়।

প্রোলিন নামক লিকুইড মৃত জীবজন্তু থেকে বের করা হতো। এমনকি এটা আসলে খুব কাজে দিচ্ছিল না কিন্তু ডাক্তার রবার্ট এটা বোতলে ভরে বিক্রি শুরু করে দেয়।

এটা খেয়ে ৩০ জন মানুষের মৃত্যু হয়ে যায় তখন। পরবর্তীতে ডাক্তার রবার্ট কে এত মানুষের মৃত্যুর দায়ে ফালতু জিনিস বিক্রির কারণে গ্রেপ্তার করা হয়।

৪) রেডিয়াম এর ব্যবহার

যখন মেরি কিউরি ও তার স্বামী পিয়ের কিউরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন তখন সেটা উনিশশো শতাব্দীর বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার ছিল।

তারা রেডিয়াম খুঁজে বের করল তারপর থেকে রেডিয়াম কে জাদু বলে মানা হতো। আর বড় বড় কোম্পানিগুলো শুরু করল সব জিনিসে রেডিয়ামের ব্যবহার।

যেমন টুথপেস্ট চকলেট এমনকি বোতলজাত পানিতেও। তখন তারা রেডিয়াম কে বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও ঘড়িতে লাগাতে শুরু করে।

এবং সেটা কিনা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করত সাথে সাথে মানুষ রেডিয়ামের ব্যবহার কসমেটিকসেও শুরু করে৷ মানুষ রেডিয়াম সম্পূর্ণ মুখে লাগাতো আর এতে করে অন্ধকারে সেটি জ্বলজ্বল করত।

এর সাথে রেডিয়ামের ব্যবহার erectile dysfuntion নামের একটি রোগের চিকিৎসা করা হতো। পরবর্তীতে যখন মানুষ জানতে পারল যে রেডিয়ামের রেডিয়েশনের কারণে মানুষের মৃত্যু হতে পারে তারপর থেকে রেডিয়ামের ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়৷

কিন্তু প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত জিনিসপত্রের রেডিয়ামের ব্যবহার ১৯৬০ সালে বন্ধ করা হয়। বর্তমানে খেলনাও ঘড়িতে অন্ধকারে জ্বলজ্বল করার জন্য রেডিয়াম এর পরিবর্তে অন্য কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। যা পরিবেশ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।

৫) মারকিউরির ব্যবহার

মারকিউরি একটা ভয়ানক পদার্থ আপনি এটা খেলে আপনার মৃত্যু অনিবার্য৷ যে সকল মাছে মারকিউরি পরিমাণ বেশি থাকে সেসকল মাছ ডাক্তাররা খেতে নিষেধ করে৷

কিন্তু অনেক বছর পূর্বে মারকিউরি ব্যবহার করা হতো syphills নামের রোগের চিকিৎসার জন্য৷ Syphills একপ্রকার সেক্সুয়াল ট্রান্সমিটেড ডিজিজ৷

এই রোগের চিকিৎসা করা না হলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে৷ বর্তমান সময়ে এ রোগ ঠিক করার জন্য প্যানশালিন ব্যবহার করা হয়৷

কিন্তু ১৩০০ থেকে হাজার ১৯৫০ সাল পর্যন্ত মানুষ syphills রোগকে ঠিক করার জন্য মারকিউরি ব্যবহার করেছে৷

মানুষজন এটা চামড়ায় লাগাতো ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করা তো৷ আবার অল্পমাত্রায় খেয়েও কিন্তু ফেলত৷

কিন্তু এই চিকিৎসা শেষে বেশিরভাগ মানুষ মৃত্যুবরণ করতো৷ Syphills রোগ ঠিক করার জন্য মারকিউরি কখনোই কাজ করতে পারেনি৷

তবে এটা ঠিক করার জন্য বর্তমানে মারকিউরাস ক্লোরাইড খানিকটা ব্যবহার করা হয়৷ এতে খুব অল্প মাত্রায় মারকিউরি ব্যবহার করা হয়৷

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3546031