অবিশ্বাস্য কিছু চুরির ঘটনা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

প্রিয় পাঠক আপনারা কখনো না কখনো বড় বড় চুরির ঘটনা শুনে থাকবেন৷ স্বাভাবিকভাবে চোর বিভিন্ন মূল্যবান ছোট বড় জিনিস চুরি করে থাকে যেমন বিভিন্ন জুয়েলারি টাকাপয়সা ইত্যাদি৷

কিন্তু পৃথিবীতে মাঝেমধ্যে এমন কিছু চুরি হয় যা সবাইকে অবাক করে ফেলে৷ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বিশ্বে একেবারে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র থেকে অতিবৃহৎ যেমন ব্রিজ চুরির ঘটনা ঘটেছে বহুবার।

আজ আমরা জানবো পৃথিবীতে এ পর্যন্ত ঘটা সবচেয়ে অবিশ্বাস্য কিছু চুরির ঘটনা যা জানলে আপনারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পরে যাবেন যে এগুলো চুরির ঘটনা নাকি অলৌকিক কিছু।

তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

৫৬ টন ব্রিজ

রাশিয়ার আর্টিক রাজ্যে একটি অস্বাভাবিক চুরির ঘটনা শোনা যায়। আর্টিক রাজ্যে নদীর উপরে এই ব্রিজটি ছিল আর অদ্ভুতভাবেই এটি গায়েব হয়ে যায়।

এই ব্রিজের ওজন 56 টনেরও বেশি ছিল। এই ব্রিজ চুরির ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন বলে এটা গায়েবী কোন ঘটনা নয়৷ তাছাড়া এখানে কোন বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টিও হয়নি।

যদি হতো হলে হয়তো ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত। তদন্তকারীরা জানায় ব্রিজটির মেটাল কেটে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী পুলিশ জানায় যে, যে চোর ব্রিজটি চুরি করেছে তাদের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিজটির মেটাল গুলি কেটে বিক্রি করা৷ কিন্তু এত বড় ব্রিজ চুরি করা কোনো সহজ কাজ নয়।

সব থেকে অবাক করা তথ্য হলো সে চোরকে আজ অবধি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটাও জানা সম্ভব হয়নি যে ব্রিজটি কিভাবে চুরি হয়েছে এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

১.৩ টনের মন্দিরের ঘণ্টা

মন্দিরের ভিতরে যে বড় বড় ঘন্টা লাগানো হয় তা আপনারা কম বেশি সবাই জানেন। আমেরিকার ওয়াশিংটনে বৌদ্ধদের একটি মন্দিরে অনেক বড় একটি ঘণ্টা লাগানো ছিল৷

এই ঘণ্টাটির ওজন ছিল প্রায় ১৩৬০ কেজি। কোন এক ব্যক্তি রাতারাতি এই ঘন্টাটি চুরি করে নেয়।

পুলিশ তদন্তের সময় বুঝে উঠতে পারছিল না যে এত বড় ঘন্টা কে কিভাবে চুরি করল ! এমনকি ঘন্টাটিকে ট্রাকে লোড করতে কেউ দেখেনি ঘন্টাটির শব্দও কেউ শুনেনি।

ঘন্টা টি ভিয়েতনামে তৈরি করা হয়েছিল। এটি এতটাই মূল্যবান ছিল যে এর সঠিক মূল্য টাকার অংকে বলা কঠিন।

মন্দিরের পাদ্রী বলেছিল যে চোর ঘন্টাটি চুরি করেছে সে হয়তো ঘন্টাটি স্ক্র্যাপে বিক্রি করে দিবে। কারণ চোর নিজেও জানেনা যে ঘন্টাটি মূল্য কত ছিল। আজ পর্যন্ত এই ঘন্টাটিকে কে কিভাবে চুরি করেছিল তা জানা সম্ভব হয়নি।

সী বিচ

কেউ কখনো ভাবতেও পারবে না যে সী বিচ ও চুরী করা সম্ভব। কিন্তু ২০০৭ সালে জামাইকার স্থানীয় লোকজন যখন সী বিচে হাঁটতে যায় তখন হঠাৎ করেই তারা লক্ষ্য করে যে সেই সী বিচ টি অদৃশ্য হয়ে গেছে।

স্থানীয় লোকজন পুলিশকে ইনফর্ম করে যে এখান থেকে সী বিচ চুরি হয়ে গিয়েছে৷ বিশ্বাস করা কঠিন হলেও প্রায় আধা কিলোমিটার সী বিচ চুরি হয়ে যায়।

আর সেটিকে কে কোথায় নিয়ে গেছে তা আজ পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। এটি কোন প্রাকৃতিক ঘটনা ও ছিল না।

ইনভেস্টিগেশন করে জানা যায় কে বা কারা ৫০০ টি ট্রাক ভর্তি করে এখান থেকে বিচের বালি কেটে নিয়ে যায়। তবে কারা চুরি করে নিয়ে গেছে এবং এই বালি দিয়ে কি করবে তা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি।

মিসিং ব্রিজ

এখন যে চুরির ঘটনা জানতে চলেছেন এটি ইতিহাসের সবচেয়ে অদ্ভুত চুরির ঘটনা গুলোর মধ্যে অন্যতম।

দুই ভাই যাদের নাম ছিল আর্থারো এবং আলেকজান্ডার এই দুই ভাই ভ্যানসো প্যানসো উইলিয়াতে ২০১১ সালে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট একটি ব্রিজ চুরী করেছিল।

এই ব্রিজটি চুরী করা ছিল অনেক কঠিন একটি কাজ। তারপরেও এই দুই ভাই এই ব্রিজ টি চুরী করেছিল এবং পিছ পিছ করে কেটে স্ক্র্যাপে বিক্রি করে দিয়েছিল।

অবাক করা তথ্য হলো এই দুই ভাই কীভাবে এই স্টিলের ওজন বিশিষ্ট এত বড় ব্রিজটি ট্রান্সপোর্ট করেছিল তা অজানায় রয়ে গিয়েছে।

ব্রিজটির আনুমানিক মূল্য ছিল ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। ইনভেস্টিগেশন করে জানা যায় এই দুই ভাই একটি রিসাইকেল কোম্পানিকে মাত্র ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ব্রজিটি বিক্রি করে দেয়৷

সেই রিসাইকেল কোম্পানির মালিকের সন্দেহ হয়েছিল তাই তারা ফরেন পুলিশকে কল করে এবং পুলিশ সেই দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে ৷

চার্চ

রাশিয়াতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্ভট চুরির ঘটনা শোনা যায়। রাশিয়াতে একটি গ্রামে এমন একটি চুরি হয়েছিল যে চুরিতে একটি পুরোপুরি চার্চ কে চুরি করা হয়েছিল ৷

এই চার্চ টি ছিল ২০০ বছরের পুরনো৷ ২০০৮ সালের জুলাই মাসে চোরগুলো এই চার্চ টিকে চুরি করে।

তারা একটি ইট ও সেখানে অবশিষ্ট রাখেনি তারা চার্চের সবকিছু নিয়ে গিয়েছিল। এই চার্চটিকে তৈরি করা হয়েছিল একটি নির্জন জায়গায় যেখানে শুধুমাত্র পাদ্রীরা আসা-যাওয়া করত।

চার্চের সবগুলো দেয়াল ভেঙ্গে এবং ছাদ ভেঙ্গে চার্চের ভিতরে সবকিছু সবকিছু চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে একটি ইট ও অবশিষ্ট রাখে নি।

ব্রিজ ভ্যানিশ

তুরস্কের একটি অঙ্গরাজ্য কুকালিওতে একটি ২২ টন ওজনের ব্রিজ রাতারাতি চুরি হয়ে যায়। অবশ্য চোরগুলো ব্রিজকে স্ক্যাপে বিক্রি করার জন্যই চুরি করেছিল এমন চুরি পৃথিবীর সর্বত্রই ঘটে থাকে৷

এমনকি কিছু বছর আগে ভারতে পুরো আস্ত একটি ব্রিজ চুরি হয়ে গিয়েছিল। চোর সে ব্রিজ টিকে তিনদিন ধরে চুরি করেছিল।

সে চুরির ঘটনায় ৪০ জন লোক সংযুক্ত ছিল। চোর গুলো চুরি করার সময় স্থানীয় লোকদের বলছিল গভর্মেন্টের আদেশে এই ব্রিজটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

অ্যাম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং

১০২ তলা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংটি আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত। জানলে অবাক হবেন এই বিল্ডিংটি মাত্র ৯ মিনিটের ভেতর উধাও হয়ে গিয়েছিল।

আর এটা আমেরিকার সব থেকে বড় চুরির ইতিহাসের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। যদি ভেবে থাকেন বড় কোন স্পেস শিপ বিল্ডিংটিকে তুলে নিয়ে গেছে তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন।

এই স্টেট বিল্ডিংটি চুরি হয়ে গেছে বলে নিউইয়র্কের একটি ডেইলি নিউজ পেপারে এই নিউজ হয়েছিল যে নিউজটি ছিল পুরোপুরি ফেইক নিউজ।

এই নিউজ এজেন্সি একটি ফেইক ডকুমেন্ট বানিয়েছিল এবং স্টেট এজেন্সিকে জানায় এটি তার প্রোপার্টি।

এই ঘটনা ছিল পুরোপুরি একটি সাজানো নাটক। যাতে করে গভর্মেন্ট থেকে এর ক্ষতিপূরণ স্বরূপ কিছু অর্থ পাওয়া যায়৷

পৃথিবীর সর্বত্রই বিভিন্ন কোম্পানি এ ধরনের মিথ্যে নাটক সাজিয়ে গভর্মেন্টের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করে৷ সেগুলোর মত একটি ঘটনা কিন্তু এটি ছিল সবচেয়ে অবিশ্বাস্য একটি সাজানো নাটক।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3546031