অলাইন কেনাকাটায় প্রতারনা থেকে বাঁচতে যে বিষয়গুলো আপনার জানা জরুরী।

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং কমপ্লেক্সে ঘুরে, ভিড় ঠেলে ঈদের কেনাকাটা করার কথা মাথায় এলে যারা চোখে শর্ষে ফুল দেখেন, তাঁদের জন্য স্বস্তির অনেক বড় একটি জায়গা হচ্ছে অনলাইন শপিং।
তাই দিন দিন অনলাইনে কেনাকাটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর এ সুযোগে কিছু চক্র গ্রাহকদের সঙ্গে করছে প্রতারণা। যার কারনে অনলাইন শপিং অনেকের কাছেই এক বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে।
কিন্তু কয়েকটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করলেই অনলাইন থেকে খুব সহজেই আপনি প্রতারনা থেকে নিজেকে রক্ষা করে শপিং করতে পারবেন।

পেজ কোয়ালিটিঃ

এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। আপনি যে পেজ থেকে কেনাকাটা করতে চাচ্ছেন সেই পেজটির মান দেখে নেয়া জরুরী। তারা ফেসবুকে নিয়মিত কিনা, তাদের প্রোডাক্ট পোষ্ট আপ টু ডেট কিনা, প্রোডাক্ট পোষ্টে তাদের কাস্টমারদের রিপ্লাই ইত্যাদি দেখে একটি পেজর মান আপনি যাচাই করতে পারবেন।

অফিস, কারখানা বা শোরুম সম্পর্কে জানাঃ

অনলাইনে প্রতিষ্ঠিত ব্রান্ডগুলোর প্রত্যেকেরই নিজস্ব অফিস কিংবা কারখানা অথবা শো-রুম থাকে। তবে যেহুতু অনলাইনই তাদের বেচাকেনার প্রধান মাধ্যম সেহুতু তাদের অনেকেরই শো-রুম থাকেনা তবে অন্তত তাদের নিজস্ব কারখানা বা অফিস রয়েছে। তাই পন্য অর্ডার করার ক্ষেত্রে তাদের এই বিষয় সম্পর্কে জিগ্যেস করে নেয়া ভাল তাতে আপনি আপনার পন্যর কোণ ত্রুটি পেলে অফলাইনে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন এবং প্রতারনার চান্স এতে নেই বললেই চলে।

ছবি দেখে পন্যর মান যাচাইঃ

অনলাইনে শপিংয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই যে সমস্যার সম্মুখীন হন তা হচ্ছে, পণ্যের ছবি দেখে পণ্যের সম্পর্কে বুঝতে না পারা। অনেক ফেইক পেজ অন্য পেজের রিয়াল ছবি তাদের নিজস্ব বলে চালিয়ে দেয়। এই সন্দেহের অবসান করার একটি অত্যন্ত কার্যকরী উপায় হচ্ছে আপনার পছন্দের প্রোডাক্টের রিয়েল ছবি অথবা ভিডিও তাদের কাছে চাওয়া। যদি আপনি যা অর্ডার করতে চাইছেন, ঠিক সে পণ্যটির ভিডিও বা কোন ইমেজ সেলার কাছে নাও থাকে, তবে তাকে পেজের অন্য যেকোনো পণ্যের ছবি/ভিড দিতে বলুন। এতে আপনি অন্ততপক্ষে পেজের পণ্যের ওভারঅল মান সম্পর্কে ধারণা পাবেন। কোনো সেলার কোনো প্রকার ছবি বা ভিডিও দিতে আপত্তি জানালে পণ্য অর্ডার করা থেকে বিরত থাকুন।

পেমেন্টঃ

পণ্য হাতে পাওয়ার পূর্বে ফুল অ্যাডভান্স পেমেন্ট করা কখনই উচিত নয়। ক্যাশ অন ডেলিভারি, অর্থাৎ পণ্য হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধ করবেন এ রকম অপশন সংবলিত পেজগুলো থেকে পণ্য অর্ডার করা। কেননা সে ক্ষেত্রে আপনার পণ্য সঠিক এবং মানসম্মত কি না, তা পরীক্ষা করে তবে আপনি বিল পরিশোধ করতে পারবেন। তবে এটা ঠিক যে অনেক বিক্রেতা তাদের কাসটম মেড বা ইম্পোর্টেড পণ্যের ক্ষেত্রে যেন লস না হয়, সে জন্য কিছু অ্যাডভান্স পেমেন্ট নিয়ে থাকেন এবং তাঁদের বিজনেসের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে পণ্য ডেলিভারি করতে ফুল পেমেন্ট চেয়ে থাকেন।

লুকানো দাম বা হিডেন কষ্টঃ

কোনো একটি ই-টেলারের সাইটে হয়তো কোনো প্রোডাক্টে ৯০ শতাংশ ছাড়ের কথা বলা হলো। এতে লোভে পড়ে অর্ডার দেওয়ার পর প্রোডাক্টটি হাতে এলে ডেলিভারি চার্জ বা শিপিং চার্জ বাবদ এত টাকা লাগতে পারে যে প্রোডাক্টটির মূল দামের তুলনায় অনেক বেশি। কাজেই অনলাইন শপিংয়ে কোনো অর্ডার দেওয়ার আগে একটু ভালো করে দেখে দিতে হবে।

বিক্রয়ত্তর সেবাঃ

আপনি যে পন্যটি ক্রয় করতে ইচ্ছুক সেটি ক্রয়ের পর কোণ সমস্যা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে আপনি ঐ পণ্যটির জন্য আর কোন সেবা পাবেন কিনা সেটা জানা জরুরী। যদি পেয়ে থাকেন তবে কি কি সেবা তারা দিবেন তা সম্পর্কেও জানতে হবে। রিয়েল সেলাররা অবশ্যই পন্য ভেদে বিক্রয়ত্তর সেবা দিয়ে থাকবেন।

পেজ রিভিউঃ

পেজ রিভিউ অনলাইন কেনাকাটায় জরুরী একটি অংশ। পেজের রিভিউ সেকশনে পুর্বের কাস্টমার উক্ত সেলারের কাছ থেকে পন্য কেনার পর সন্তুষ্ট কিনা তা জানা যায়।

কিন্তু এখানে কিছু তিক্ত সত্যতা আছে। আমরা সবাই জানি যে আমরা কর্মক্ষেত্রে কখনোই সবাইকে সমানভাবে সন্তুষ্ট করতে পারবোনা।

এখানে আমাদের নিজস্ব কিছু অভিজ্ঞতাই উদাহারন স্বরূপ তুলে ধরলাম। ধরা যাক ১০০টি পন্য বিক্রয় হয়েছে । ৯৫ জন ক্রেতা সন্তষ্ট এবং বাকি ৫ জন অসুন্তষ্ট। তো সেই ৯৫ জন ক্রেতার ভিতর গুটি কয়েক ভাল রিভিউ দিলেন কিন্তু অসুন্তষ্ট সেই ৫ জন তাদের আইডি দিয়েই নয় তাদের বন্ধুবান্ধব সবার আইডি দিয়ে পেইজে বাজে রিভিউ দিয়ে পেইজের মান কমিয়ে দিতে চাইলেন।

সাধারণত অনেক পজেটিভ দিক থাকা সত্ত্বেও গুলো আমাদের চোখে কম লাগে আবার ঐদিকে নেগেটিভ বিষয় কম হলেও সেটা আমাদের মনের মধ্যে গেথে যায়। তাই অনেক পেজ ই তাদের রিভিউ সেকশন তুলে দিতে বাধ্য হয়।

তাই পেজ রিভিউ না থাকলেও উপরোক্ত বিষয় গুলো যদি আপনি জানা থাকে তাহলেও আপনি একটি অনলাইন ব্র্যান্ডের সম্পর্কে ধারনা নিতে পারবেন।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ