উত্তর কোরিয়ার অদ্ভুত যত নিয়ম কানুন

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সংস্কৃতি, জীবন শৈলী ও নিয়মাবলী থাকে। পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেখানকার মানুষের জীবনধারণ সত্যিই সুন্দর। সেখানকার মানুষের জীবনটাকে ভীষণভাবে উপভোগ করে। আবার এমন কিছু দেশ ও আছে যেখানে জনগন মাত্রই সরকারের খেলার পুতুল । আজকে আমরা আপনাদের জানাবো উত্তর কোরিয়া নামক বিচ্ছিন্ন একটি দেশের কথা যেখানে রয়েছে অদুভত কিছু নিয়ম যা জানলে আপনি চমকে উঠবেন। 

তবে চলুন জেনে নেয়া যাক কি হতো যদি আপনার জন্ম উত্তর কোরিয়াতে হতো? 

সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস

উত্তর কোরিয়াতে একজন মানুষের জন্ম হলেই তাকে সরকারি ভাবে একটা স্ট্যাটাস দেয়া হয়। সেখানে একে বলাহয় Songbun। এটাকে ৩ ভাগে ভাগ করাহয়। Core Class, Wavering Class, Hostile Class এই স্ট্যাটাস গুলো বাচ্চারা বংশগত ভাবে বাবার থেকে পেয়ে থাকে। আর এখান থেকেই নির্ধারন করা হয় বাচ্চারা ভবিষ্যতে কোণ স্কুল বা ইউনিভার্সিটিতে পড়বে। 

শিক্ষা ব্যবস্থা

এখানে বাচ্চাদের বয়স চার বছর হলে ১ বছরের জন্য কিন্ডার গার্ডেনে পড়াশুনা করতে হয়। আর ৫ বছর হলে তাকে সরকার নির্ধারিত স্কুলে পাঠাতে হয়। এখানে পড়াশুনা করা বাধ্যতামুলক নয়।  যদি একজন বাচ্চার বাবা মা তাকে পড়াতে চায় তবেই সে পড়াশুনা করতে পারে। 

স্কুল গুলোতে রাশিয়ান ও ইংলিশ সাহিত্য সম্পর্কে সামান্য ধারনা দিয়ে তাদের বাকিটা সময় পড়ান হয় উত্তর কোরিয়ার প্রস্তিঠাতা কিম ইলসাং, সাবেক শাসক কিম জং ইল ও বর্তমান ক্ষমতায় থাকা কিম জং উনের আত্মজীবনী ও ভাল গুন। যাতে সরকার এবং দেশের  প্রতি বাচ্চারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে। 

সেখানে একটি বাচ্চা তার নিজের নাম লিখতে শেখার আগে তাদের শাসকদের নাম লিখতে শেখানো হয়। সরকারি প্রোপাগান্ডা অনুযায়ী স্কুল গুলোতে পড়াশুনা শেখানো হয়। সেখানে বাচ্চাদের স্কুলের ছুটিতে মিলিটারি ড্রেস পরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারেডে অংশগ্রহন করতে হয়। তাও আবার খালি হাতে নয়, কৃত্রিম অস্ত্রশস্ত্র হাতে। 

শাস্তি 

উত্তর কোরিয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেয়াহয় প্রকাশ্যে। এবং সেই মৃত্যুদণ্ড জনসাধারনের জন্য দেখা বাধ্যতামূলক যেখানে বয়স কোন বিবেচ্য নয়। 

বিনোদন

সেখানে বাচ্চাদের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানা ব্যবস্থা তবে সেখানেও কিন্তু রয়েছে। এক মাত্র উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব কার্টুন ছাড়া সেখানে অন্য দেশের তৈরি করা কার্টুন দেখানো হয়না। 

গাড়ি চালানোর অনুমতি 

সেখানের নাগরিকদের প্রতিদিন সকালে জাতীয় সঙ্গীত শোণা বাধ্যতামূলক। সাধারন নাগরিকদের জন্য গাড়ি চালোন বা বাইক চালান নিষিদ্ধ। শুধু মাত্র সরকারি কর্মচারিরাই গাড়ি চালানর অধিকার রাখেন। আর যদি সাধারন নাগরিক গাড়ি চালাতে চান তবে তাকে সরকারের কাছ থেকে নিতে হবে বিশেষ অনুমতি। তবে সে অনুমতি পান প্রতি হাজারে মাত্র ১ জন!! 

ভ্রমন 

সেখানের মানুষজন চাইলেই নিজ দেশের ভিতর এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ভ্রমনে যেতে পারে না। নিজ দেশেই তাদের ভ্রমনের জন্য নিতে হয় বিশেষ অনুমতি। আর বাহিরে ভ্রমনের জন্য রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। সে দেশের নাগরিকরা কখনই উত্তর কোরিয়া ছেড়ে যেতে পারবেন না তবে তাদের রাশিয়া যাবার অনুমতি রয়েছে কিন্তু সেটিও যেতে হবে আপনাকে শ্রমিক হিসেবে, ট্যুরিস্ট হিসেবে নয়। 

ইন্টারনেট

উত্তরকোরিয়ায় জনসাধারনের ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ। শুধু মাত্র সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরাই স্বল্প সময়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। সরকারী অনুমোদন আছে এমন ১০০০টি সাইট শুধু তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কে চলতে পারে। এর বাইরে সব নিষিদ্ধ।

১০টি কাটিং এর বাইরে চুল কাটা নিষিদ্ধ

উত্তর কোরিয়ায় সরকার অনুমোদিত ১০ টি কাটিংয়ের বাইরে অন্য কোনো স্টাইলে চুল কাটা যাবে না। নারীদের জন্য অবশ্য একটু বেশি স্বাধীনতা। তারা চুল কাটতে পারবে ১৮টি স্টাইলে। 

উত্তর কোরিয়ার ২৫ মিলিয়ন জনগণের মাত্র ২৮ টা চুলের স্টাইল। শুধু এই তথ্যেই হয়তো বুঝতে পারছেন, সেখানে মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়া কতটা কঠিন! নিজের মতো চুল পর্যন্ত যেখানে কাটা যায় না। ভিন্নরকম কাটিং যদি কেউ দিতে চায়, তাকে সরাসরি পাঠানো হয় জেলখানায়!

নীল রঙা জিনস আর চকলেট অবৈধ

কিম জং উন কোনো কিছু জনপ্রিয় হয়ে যাওয়া পছন্দ করেন না। যা কিছু জনপ্রিয় হয়, সব কিছুকেই তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেন। ২০১৪ সালের দিকে চকো পাই চকলেট উত্তর কোরিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এতে কিম জং উনের মন খারাপ হয়। তাই তিনি এই চকলেট নিষিদ্ধ করে দেন। নীল রঙা জিনসও সেদেশে নিষিদ্ধ, কারণ এই জিনস নাকি অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যবাদকে প্রতিনিধিত্ব করে!

দাদার সাজা নাতি ভোগ করে

কিম জং উন লেবার ক্যাম্পের বন্দীদের দিয়ে বিভিন্ন ধরণের কাজ করান ফ্রি-তে। এই ফ্রি-তে লোক পাওয়ার ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে তিনি এক উদ্ভট চিন্তা করলেন যাতে করে কাজ করার মতো বন্দী লোকের কখনো অভাব না হয়। তারা “তিন পুরুষের শাস্তি” নিয়ম প্রবর্তন করেন। এই নিয়মে একজন মানুষ রুটি চুরি করেছে, এই অপরাধে গোটা পরিবারকে আটক করা জায়েজ আছে। 

সরকার নির্ধারিত পোষাক

আপনি কি জামা-কাপড় ব্যবহার করবেন সেটাও ঠিক করা রয়েছে। ওখানে জিন্‌স পরা নিষিদ্ধ। শুধু পোশাক নয়, বাড়ির রং-ও হতে হবে ধূসর। সব বাড়িতে থাকতে হবে দেশের নেতাদের ছবি।     

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ