এই প্রথম মানবদেহে করোনাভাইরাসের পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন প্রয়োগ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা করোনাভাইরাসের যে টিকাটি তৈরি করেছেন, তা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কিছু মানুষের ওপর। এই পরীক্ষা সফল হলে তা হবে এই মহামারির বিরুদ্ধে এক বিরাট বিজয়। 

করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে অনেক দিন ধরে গবেষণা চলছিল। এবারও এগিয়ে এসেছেন সারাহ গিলবার্ট ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে আফ্রিকায় কাপিয়েছিলো ইবোলা নামের ভাইরাস। মূলত পশ্চিম আফ্রিকায় প্রাদুর্ভাব হওয়া এই মহামারিতে ১৩ হাজার ৩১০ জন মারা গিয়েছিল।

সারাহ গিলবার্ট

সেবার এই ভাইরাস রুখতে দিশা দেখিয়েছিলেন অক্সফোর্ড বিজ্ঞানী অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট।এবার যখন সারা বিশ্ব স্থবির এক রহস্যময় ভাইরাস করোনার তাণ্ডবে, এই রোগ মোকাবিলায় দিশেহারা বিশ্বনেতারা, আবার আলো হাতে সেই সারাহ গিলবারট। তার নেতৃত্বে তৈরি হচ্ছে ক্রোনার ভ্যাকসিন, গত ২৩ এপ্রিল এটি মানবশরীরে প্রয়োগ করা হয়।

জেন্না ইনস্টিটিউট ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হতে যাওয়া এই ভ্যাকসিনের নাম এখন পর্যন্ত Chadox1 nCoV-19।গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথম প্রাদুর্ভাব হয় করোনাভাইরাস। এরপর এটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বে। ১০ জানুয়ারি থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের কাজ শুরু করে অক্সফোর্ড।

জেন্না ইনস্টিটিউট ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে করোনা প্রতিরোধকারী এই ভ্যাকসিন। মার্চে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। এর সাফল্যের দিকে তাকিয়ে সারা বিশ্ব।আজ ইংল্যান্ডের থেমস ভ্যালিতে চলবে এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল পর্ব।

ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৫১২ জন পুরুষ ও মহিলার স্ক্রিনিং চলছে।আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বে সাড়ে ২৬ লাখ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১ লাখ ৮৬ হাজার জন। ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া হলে বিশ্বের বিপর্যয় যে কোথায় গিয়ে ঠেকবে কেউ জানে না।বিশ্বে করোনার থাবা বসানোর পর থেকেই টিকা আবিষ্কারের পথ খুঁজতে শুরু করে দিয়েছিলেন দেশ ও বিদেশের বিজ্ঞানীরা।

ফেব্রুয়ারির শেষে ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা প্রথম করোনার ভ্যাক্সিন নিয়ে আসবে। প্রায় দুই মাস পেরিয়েছে, কোনো খবর নেই। আমেরিকায় একটি এবং চীনের দুটি সংস্থাও প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অনেকটা এগিয়েছে। কিন্তু সেগুলো সময়সাপেক্ষ। অনিশ্চয়তার এই আবহে আজ ব্রিটেনে শুরু হচ্ছে মানুষের উপর সম্ভাব্য প্রতিষেধকের পরীক্ষা।

এই যুগান্তকারী আবিষ্কার ও গবেষণায় অধ্যাপক-বিজ্ঞানী সারা গিলবার্ট-এর নেতৃত্বে দলে আরও রয়েছেন অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল ও ড স্যান্ডি ডগলাস। তাদের দাবি, এই ভেক্টর ভ্যাকসিন ইবোলার মতোই নষ্ট করে দেবে সার্স কভ-২ আরএনএ ভাইরাল স্ট্রেইনকে।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক জানান, এই প্রতিষেধকের সাফল্য নিয়ে অক্সফোর্ডের গবেষকেরা ৮০ ভাগ নিশ্চিত। এর জন্য অক্সফোর্ডকে ২ কোটি পাউন্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী।অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছিলেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের কাজ প্রায় সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে।

কিন্তু এতটা সময় আর অপেক্ষা করতে হল না। গত ২৩ এপ্রিলই মানবশরীরে ট্রায়াল দেওয়া হয়।সারা গিলবার্ট জেন্নার ইনস্টিটিউট এন্ড ন্যুফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের ভ্যাকসিনোলজির একজন অধ্যাপক।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ