ওমেগা ৩ কি? আর শরীরের জন্যই বা কেনো প্রয়োজন?

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

অনেকেই শুনেছেন ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডের প্রয়োজনীয়তার কথা। কিন্তু আসলে কি এই ফ্যাটি এসিড? কেনই বা খেতে হয় এই ওমেগা ৩? উপকারিতা কি কি? এসবের উত্তর জানা নেই অনেকেরই। চলুন জেনে নিই ওমেগা ৩ সম্পর্কে।

আমাদের মস্তিষ্কের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগই এই ফ্যাটি এসিড। সেল মেমব্রেন, হরমোন, সিগনালিং ম্যাসেঞ্জার প্রভৃতি তৈরিতে ফ্যাটি এসিডের গুরুত্ব অনেক। উপকারী এই ফ্যাটি এসিডকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন বিজ্ঞানীরা- অতি প্রয়োজনীয় ও স্বল্প প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড।

এদের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিডের অধিকাংশই মানুষের শরীর নিজে নিজে তৈরি করতে পারে না। খাবারের থেকে গ্রহণ করতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হল ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। এদিকে স্বল্প প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর নিজেই তৈরি করতে পারে।

ওমেগা ৩ কি?

ওমেগা ৩ হল এক ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ মাত্রই জানেন, সম্পৃক্ত চর্বি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তেল-চর্বিযুক্ত খাবার একটা বয়সের পর সে কারণে খেতে মানা। কিন্তু অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খেতে বাঁধা নেই, বরং এটি রক্তে উপকারী চর্বির পরিমাণ বাড়ায় এবং দেহের নানা উপকার করে।

প্রকৃতিতে কয়েক ধরনের ওমেগা ৩ চর্বি আছে। এর মধ্যে ‘আলফা লিনোলেইক’ এসিড পাওয়া যায় কিছু উদ্ভিজ্জ্ব খাবার বা তেলে। অন্যদিকে সামুদ্রিক খাবারে পাওয়া যায় ‘ইকোসা পেন্টানোয়িক অ্যাসিড’ এবং ‘ডোকোসা হেক্সানোয়িক অ্যাসিড’।

ওমেগা ৩

সামুদ্রিক মাছ অনেকেরই প্রিয় খাবার। পুষ্টিগুণ বিচারে সামুদ্রিক মাছ কোন অংশেই কম নয়। মাছকে বলা হয়ে থাকে নিরাপদ প্রোটিনের উৎস। সামুদ্রিক মাছের আমিষ সহজে পরিপাক হয়। সামুদ্রিক মাছের তেল ওমেগা- ৩ ফ্যাটি এর একটি উৎস, যা ‘মস্তিস্কের খাদ্য’ নামে পরিচিত।

সামুদ্রিক মাছে আছে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ লবণ। এছাড়াও মাছে চর্বি, খনিজ তেল, আয়রণ, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস পাওয়া যায়। মাছের শতকরা ২৩ ভাগই আমিষ। মাছ, বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না।

মাছ মানুষের হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ককে কার্যকর ও সুরক্ষিত রাখতে বিরাট ভূমিকা পালন করে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ৫৪৯,০০০ নারীর উপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যে, যেসব নারী প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার মাছ খান তাদের তুলনায় মাছ না খাওয়া নারীরা ৫০ শতাংশ বেশি হার্ট এটাকের ঝুঁকিতে থাকেন।

কিন্তু অনেকেই আছেন যারা মাছ খেতে পছন্দ করেনা না বা নিয়মিত মাছ খেতে চাননা। তাদের জন্য কিন্তু রয়েছে আলাদীনের এক্সিলেন্ট ওমেগা ৩ – ৬ – ৯ ফুড ক্যাপসুলটি। এটি তৈরি করা হয়েছে সামুদ্রিক মাছের তেল বা চর্বি থেকে সংগৃহীত উপাদান দিয়ে। যা কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সর্বাধিক কার্যকর ।

ওমেগা ৩ ক্যাপসুলের কার্যকারিতা

১. অস্টিওআর্থাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থাইটিস ও গাউট রোগের জন্য বিশেষ কার্যকর।

২. লেপ্টিন হরমোন নিঃসরণে ক্ষুধা ও ওজন কমায় এবং ইন্সুলিন সেন্সিটিভিটি বাড়ায়।

৩. অতি বেগুনি রশ্নি থেকে ইপিডার্মাল ও ডার্মালস্কিন সেলকে রক্ষা করে।

৪. মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিসহ শিশুর মস্তিস্ক গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৫. পিরিয়ডের ব্যাথা উল্লেখজনকভাবে হ্রাস পায়। 

৬. অ্যাজমা, অক্সিমা, নেফ্রটিক সিন্ড্রম ও সিজোফ্রেনিয়া রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।

৭. শিশুদের অ্যাজমার ঝুঁকি ৫০% পর্যন্ত কমায়।

৮. EPA, DHA & ALA বিদ্যমান, তাই কোষের সাবস্টেন্স চলাচলে নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। 

৯. সেলমেমব্রেন, হরমোন, সৃতিভ্রম হওয়ার আশংকা ৪৭% কমায়

১০. প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রজনন তন্ত্র, চুল এবং ত্বকের রোগ প্রতিরোধ করে।

১১. স্ট্রোক ৩১%, অস্বাভাবিক হ্রদস্পন্দন ৫৪%, হার্টঅ্যাটাকা ৬৫%, করনারি আর্টারিডিজিজ ৫৪%, উচ্চমাত্রার টিজি ৪৪.৯% কমায় এবং এইচডিএল ৯% বাড়ায়।

১২. বয়সজনিত ছানিপড়া ৭৫% ও মৃগীর প্রবনতা কমাতে সহায়ক।

ওমেগা ৩ ক্যাপসুলের উপদান

সামুদ্রিক মাছের তেল বা চর্বি থেকে সংগৃহীত।

সেবন বিধি

খাবারের পর ২টি সফট জেল দৈনিক ১-২ বা অথবা অভিজ্ঞ কন্সাল্টেন্ট এর পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ