করোনাভাইরাস কতোটা মারাত্মক হতে পারে?

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

একটি ভাইরাস! যাহ সারা বিশ্বের সকল মহারথি’র ঘুম হারাম করে ফেলেছে। পৃথিবী’র সকল বিজ্ঞানীদের চোখে ঘুম নেই কারণ এই ভাইরাস প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কোন উপায় এখনো তাদের জানা নেই! সারাবিশ্বে এরই মধ্যে ১৯৬টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস, বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে ১৬ হাজারের বেশি মানুষের;

সমগ্র বিশ্বে আক্রান্তের হার ও আক্রান্তদের রোগীদের মৃতুহার বাড়ছে ক্রমাগতই। গত ১৪ মার্চ ওয়াশিংটন পোষ্ট (Washington Post) এক ভিডিও সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে এই ভাইরাসটি কত দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। উল্লেখিত কারণগুলো যথেষ্ট আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার জন্য।

আমরা কি আতঙ্কিত হবো?

না আমরা কোনভাবেই আতঙ্কিত হবো না। আমরা সকলেই করোনাভাইরাস সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে নিবো এবং আমাদের ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি’দের মাঝেও ছড়িয়ে দেব।

করোনাভাইরাস কি ও কত প্রকার?

১৯৬০-এর দশকে এই ভাইরাসটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় মুরগির মধ্যে ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে; এরপর সংক্রমিত হয়ে ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে চলে আসে সাধারণ সর্দি-হাঁচি-কাশি রুপে; আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সেম ভাইরাসের দুই ধরনের ভার্সন পরিলক্ষিত হয়। ভার্সন দুটির নাম দেওয়া হয় ‘Human Coronavirus 229E’ এবং ‘Human Coronavirus OC43।

Center of Disease Control and Prevention (CDC) বলছে, করোনা একক কোন ভাইরাস নয় অসংখ্য ভাইরাসের সংঘবদ্ধ দল। এই অসংখ্য ভাইরাসের মধ্যে নভেল করোনা ভাইরাস সহ মোট সাতটি ভাইরাস আমাদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।

আসুন এই সাতটি করোনাভাইরাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

  1. 229E (আলফা করোনা ভাইরাস)
  2. NL63 (আলফা করোনা ভাইরাস)
  3. OC43 (আলফা করোনা ভাইরাস)
  4. HKU1 (বিটা করোনা ভাইরাস)
  5. MERS-CoV (বিটা করোনা ভাইরাস): ২০১২ সালে সৌদি আরবে প্রথমবার এই ভাইরাসে সংক্রিত হয়। যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলো তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে করার ফলে অন্যদেরও MERS-CoV ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞানী’দের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে উটের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে; যার প্রভাবে ২৪৯৪ জন আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ৮৫৮ জন মারা গিয়েছিলো।
  6. SARS-CoV: ২০০২ সালে দক্ষিন চীনের গুয়াংডু শহরে এই ভাইরাস প্রথম সনাক্ত করা যায়; এরপর হংকং হয়ে পুরো এশিয়া জুড়ে এই ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা সহ  ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়েছিল এই ভাইরাস। ৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়ে ছিলেন প্রায় ৮০০ জন মানুষ।
  7. SARS-CoV-2: এই ভাইরাসই করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত। করোনার CO, ভাইরাসের VI এবং ডিজিসের D নিয়ে হয়েছে COVID-19। ২০১৯, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে যাওয়া ভাইরাসকে প্রাথমিকভাবে শহরটির নামেই ডাকা শুরু করে চীনের নাগরিকগণ; পরে উপলব্ধি করতে পারে এই নামটি শহরটির বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। এই কারণে গত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভাইরাসটিকে ‘২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাস’ বা 2019-nCoV নামে নামকরণ করে। তবে এই নামকরণ সাময়িক সময়ের জন্য উল্লেখ করেছেন।

করোনাভাইরাস মানব শরীরে কিভাবে কাজ করে?

মেডিক্যাল জার্নালের তথ্যনুযায়ী করোনা ভাইরাস’কে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে দেখলে মনে হবে এরা মাথায় মুকুট পরে আছে। ল্যাটিন ভাষায় যার নাম ‘করোনাম’ (Coronam)। উপরের ছবিতে যে খোঁচাগুলি দেখছেন সেগুলি আসলে স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন (spike glycoproteins)। যার মূল কাজ হল মানুষের শরীরে বন্ধু প্রোটিন গুলো খুঁজে নেওয়া; বাহক কোষের প্রোটিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে এরা কোষের মধ্যে ঢুকতে যায়।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম শ্যাফনারের বলেছেন, রোগাক্রান্ত মানুষের হাঁচি-কাশির ড্রপলেট যখন বায়ুতে ঘুরে বেড়ায়। তখন ঐ রোগীর কাছাকাছি থাকা সুস্থ মানুষের নাক, মুখ ও চোখের মাধ্যমে ড্রপলেটগুলো শরীরে প্রবেশ করে। শরীরে এসেই ভাইরাসের অণুগুলো দ্রুত নাকের পিছন দিকে বা গলার ভিতরের দিকে মিউকাস মেমব্রেনের ভিতরে গিয়ে কোষে হানা দেয়।

কোষ যখন বাধ্য হয়ে ভাইরাসের বৃদ্ধি ও ফুলেফেঁপে ওঠার কাজে মন দেয়, তখন বেড়ে যাওয়া ভাইরাস অণুগুলি ফেটে গিয়ে গ্রাহক কোষের চারপাশে থাকা অন্যান্য কোষগুলিকেও আক্রমণ করে। এরই উপসর্গ হিসেবে গলাব্যথা ও শুকনো কাশি শুরু হয়।

এর পর দ্রুত এই ভাইরাস ব্রঙ্কিওল টিউবে ছড়িয়ে পড়ে। যখন বাড়তে বা়ড়তে সেই ভাইরাস ফুসফুসে এসে পৌঁছয়, তখন ফুসফুসের মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ তৈরি হয়। এটি অ্যালভিওলাই ও ফুসফুসের থলিগুলির ক্ষতি করে। যার ফলে সারা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করা ও কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ করার কাজটাও খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

ভাইরাসটি ফুসফুসে কিভাবে ছড়িয়ে পড়ে এই ব্যাপারে শিকাগো স্কুল অব মেডিসিনের প্যাথোলজি বিভাগের অধ্যাপক সু-ইউয়ান খুব সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি চিনের করোনা-আক্রান্ত রোগীদের রিপার্ট পরীক্ষা করে দেখতে পান, ফুসফুসের দুই পা‌শের পেরিফেরিয়াল অঞ্চলে আক্রমণ করে উপরের শ্বাসানালী ও ট্রাকিয়ার দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আইকাহান স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখিয়েছেন, চিনে অনেক রোগীর প্রাথমিক পর্যায়ে সিটি স্ক্যান করানো হয়েছিল। সিটি স্ক্যানে দেখা যায়, রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের অংশগুলিতে এক ধরনের ধোঁয়াশার ওড়না। এমন ছাপ বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণের জন্যই হয়। অসুস্থতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অস্বচ্ছ অঞ্চলগুলি ছড়িয়ে পড়ে ও ঘন হতে থাকে।

বিজ্ঞানী’রা গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান ফুসফুস ছাড়িয়ে ভাইরাসটি’র ব্যাপ্তি কতটুকু? এই বিষয়ে গবেষক কম্পটন ফিলিপ বলেন, তেমন সরলীকরণ করলে ভুল হবে। মিউকাস মেমব্রেনের পথ ধরেই এই ভাইরাস ছড়ায়। তাই নাক-মুখ দিয়ে ঢুকে তা মিউকাস মেমব্রেন ধরে এগোতে এগোতে পায়ুদ্বার পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। অথবা মানব শরীরের যেকোন অংশেই করোনার প্রভাবে খাটাতে পারে।

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেমেও এই ভাইরাস হানা দেয়। তখন জ্বর-সর্দি-কাশির সঙ্গে ডায়েরিয়া বা বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়। রক্তবাহেও প্রবেশ করতে পারে এই জীবাণু। করোনাভাইরাস রোগীর আরএনএ ​​এবং মলের নমুনাতেও ধরা পড়েছে। তবে সংক্রামক এই ভাইরাসকে রক্ত বা মল ধরে রাখতে পারে কি না তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ধারণায় পৌঁছতে পারেননি চিকিৎসকেরা।

নভেল করোনা ভাইরাস আক্রমণে মস্তিষ্কে কোন প্রভাব পড়বে কিনা এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনও নিশ্চিত নন। যদিও, সার্স ভাইরাসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছিলেন যে সার্স ভাইরাস কিছু রোগীর মস্তিষ্কেও অনুপ্রবেশ করতে পারত। তবে সার্স ও কোভিড-১৯-এর চরিত্রগত বেশ মিল থাকায় জার্নাল অব মেডিক্যাল ভায়ারোলজির গবেষকরা গত মাসের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে যুক্তি দিয়েছিলেন যে করোনাভাইরাস কিছু কিছু স্নায়ুকোষ সংক্রামিত করতে পারে। সুতরাং এর সংক্রমণ অঞ্চল নিয়ে এখনই নিশ্চিত হয়ে কিছু ধরে না নেওয়াই ভাল।

মানব শরীরের অস্থিমজ্জা এবং লিভারের মতো অঙ্গগুলো এই ভাইরাসের আক্রমণে ফুলে উঠতে পারে। শরীরে এই ভাইরাস ছড়়িয়ে যাওয়া মাত্রই শরীরের সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এর সঙ্গে লড়াই শুরু করে। যার ফলে আক্রান্ত স্থানগুলির কিছুটা ক্ষতি করে। শারীরিক ক্ষতি যে কেবল ভাইরাসের কারণেই হয়, এমন নয়। ক্ষতি কিছুটা হয় নিজের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারাও।

করোনাভাইরাস আক্রান্তদের শরীরে কি কি লক্ষণ দেখা দিতে পারে? 

করোনা ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল থাকতে পারে। অর্থাৎ, শরীরে প্রবেশ করার পর এক সপ্তাহ ঘাপটি মেরে সুপ্ত অবস্থায় মানব শরীরের সাথে মিউটেশন ঘটাতে পারে। হঠাৎই আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর-সর্দি-কাশি বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। সুস্থ হয়ে ওঠার কিছু দিন পরে ফের এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে; কাজেই একবার সুস্থ হয়ে উঠলেই পুনরায় আক্রান্ত হবার ভয় নেই; এ এমন ভাবনা ঠিক নয়। জ্বর-সর্দি-কাশির সঙ্গে ট্র্যাকিয়া ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণের জন্য শ্বাসকষ্টও শুরু হয়। পেটের অসুখও দেখা দিতে পারে যদি এই ভাইরাস গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেমকেও আক্রমণ করে বসে।

  • করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
  • এর সঙ্গে সঙ্গে থাকে জ্বর এবং কাশি।
  • অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া।
  • হতে পারে নিউমোনিয়া।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তার পর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

করোনাভাইরাস কতোটা মারাত্মক হতে পারে? 

এই ভাইরাসের সংক্রমন শুরু হয় জ্বর এর মাধ্যমে, এরপরে শুকনো কাশি; এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা না থাকায় বিভিন্ন উপসর্গের বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়ার জন্যে অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শতকরা প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে যায় বলে মনে করা হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ভাইরাসটি তার রুপ পরিবর্তন করে ফেলে হতে পারে। করোনাভাইরাস এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা হয়তো একজন ব্যক্তি থেকে আরেকজন ব্যক্তিতে ছড়ানোর জন্য পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা আরো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

অধ্যাপক মার্কি উলহাউজ বলেছেন, ”যখন আমরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে দেখতে পাই, আমরা বোঝার চেষ্টা করি লক্ষণগুলো কতটা মারাত্মক। এটা ঠাণ্ডা লাগার লক্ষণগুলোর চেয়ে একটি বেশি, সেটা উদ্বেগজনক হলেও, সার্সের মতো অতোটা মারাত্মক নয়।

সার্স বা ইবোলা’র মতো ততোটা মারাত্মক না হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যে বিশ্ব জুড়ে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

যেভাবে প্রতিরোধ করবেন।

ভাইরাসটি’র এখন পর্যন্ত কোন টিকা বা ভ্যাকসিন নাই এবং এমন কোন চিকিৎসা নেই যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। এই ভাইরাস থেকে মানব জাতি’কে রক্ষা করার একমাত্র উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ করা।

  • যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে বা এ ভাইরাস বহন করছে- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।\
  • হাঁচি বা কাশির পরে হাত ধুয়ে নিন।
  • কাশি বা হাঁচির আগে মুখ ঢেকে নিন।
  • আপনার যদি মনে হয় যে আপনি সংক্রামিত, তাহলে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলুন।
  • রান্না না করা গোশত ও ডিম খাওয়া এড়ান। ]
  • নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেট রাখুন।
  • লক্ষণগুলো দেখা দেয়া মাত্রই ওষুধ খান এবং পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে দেবেন না।
  • ধোঁয়াটে এলাকা বা ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন।
  • যথাযথ বিশ্রাম নিন।
  • ভিড় থেকে দূরে থাকুন।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ