করোণাভাইরাসে যেসব ভুয়া স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্বাস করবেন না

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

সারা বিশ্বে অতিদ্রুত ছড়িয়ে পরা এই ভাইরাসটির এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক স্বীকৃত কোন প্রতিষেধক বের হয়নি।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় এইযে এই ভাইরাস ঠেকাতে সোশ্যাল মিডিয়াতে যেসব স্বাস্থ্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে তার ভিতর অনেক গুলই রয়েছে অপ্রয়োজনীয় কিংবা বিপজ্জনক।

অনলাইনে ছড়িয়ে পরা এসব স্বাস্থ্য পরামর্শ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা কি বলছেন?

আইসক্রিম পরিহার ও তাপমাত্রা

গরমে করোনাভাইরাস মরে যায় এমন অনেক পরামর্শ আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যাচ্ছে।

গরম পানি পান করা, গরম জলে স্নান করা আবার এমনকি হেয়ার ড্রেসার ব্যবহারের সুপারিশ ও করা হচ্ছে।

গরম পানি পান করলে, রৌদের নীচে দাঁড়ালে ভাইরাসের জিবানু মরে যাবে এমনটাই বলা হচ্ছে। এবং এর পাশাপাশি আইসক্রিম ও খেতে নিষেধ করা হচ্ছে।

কিন্তু ইউনিসেফ বলছে এটি স্রেফ ভুয়া খবর। দেহের বাইরের এই জীবাণুকে মেরে ফেলতে হলে অন্তত ৬০ ডিগ্রির তাপমাত্রার প্রয়োজন পরে। যেটা গোসল করার পানির চেয়ে অনেক বেশি গরম।

১৫ মিনিট পরপর পানি পান করা

একজন ‘জাপানি ডাক্তার’কে উদ্ধৃত করে ফেসবুকের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের জীবাণু মুখের মধ্যে ঢুকে পড়লেও প্রতি ১৫ মিনিট পর পর পানি খেলে তা দেহ থেকে বের হয়ে যায়।

এটিও একটি স্রেফ মিথ্যাচার।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক স্যালি ব্লুমফিল্ড বলেছেন, এই দাবির পক্ষে সত্যিই কোন প্রমাণ নেই।

রসুন

ফেসবুকে এমন অনেক পোষ্ট দেখে গেছে যে সেখানে বলা হচ্ছে যদি রসুন খাওয়া হয় তাহলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে “যদিও রসুন একটা স্বাস্থ্যকর খাবার এবং এটাতে এন্টিমাইক্রোবিয়াল আছে” কিন্তু এমন কোন তথ্য প্রমাণ নেই যে রসুন  কোভিড(১৯) থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে একজন নারী দেড় কেজি কাঁচা রসুন খেয়েছে এমন একটি খবর দিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

এর ফলে তার গলায় ভয়াবহ জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এবং পরে ঐ নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

আমরা জানি যে ফল, সবজি, এবং পানি স্বাস্থ্যর জন্য ভাল। কিন্তু নির্দিষ্ট কোন খাদ্য দিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হবে, এর পক্ষে কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

অলৌকিক সমাধান

জরডান সাথের নামের একজন ইউটুবারের রয়েছে হাজার ফলোয়ার্স যিনি দাবি করেছেন যে “ একটা অলৌকিক খনিজ পদার্থ “ যাকে এমএমএস নামে ডাকা হয় সেটা দিয়ে এই করোনাভাইরাস দূর করা সম্ভব।

এতে রয়েছে ক্লোরিন ডাই-অক্সাইড যেটা একটা ব্লিচিং এজেন্ট।

অনেকেই এই পদার্থকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রচার করে আসছে।

তিনি জানুয়ারি মাসে একটি  টুইট বলেন “ক্লোরিন ডাই-অক্সাইড ক্যান্সারের কোষকেও ধ্বংস করতে পারে এবং এটা করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারে।”

এমএমএস পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা গত বছরে মার্কিন ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রিশন আগেই সতর্ক করে দিয়েছে।

অন্যান্য দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও এই বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

ঘরে তৈরি জীবাণুনাশক

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস ঠেকানোর একটা কার্যকর উপায় হচ্ছে বার বার করে হাত ধোয়া।

কিন্তু সংক্রমণ বেড়ে যাবার কারনে হ্যান্ডওয়াশের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

আক্রান্ত দেশ গুলোর ভিতর ইটালি অন্যতম।

যখন সেই দেশে হাত ধোয়ার জেল ফুরিয়ে গেল তখন এটি কিভাবে বাসাতেই তৈরি করা যায় তার রেসিপি দেয়া শুরু হল সামাজিক মাধ্যমে।

কিন্তু সেসব রেসিপিতে ব্যবহার করা হত মূলত সেই সব জীবাণুনাশকের – যা ঘরের মেঝে বা টেবিলের উপরিভাগে ব্যবহার করতে হয়।

কিন্তু বিজ্ঞান বলছে এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড জেলগুলোতে ৬০%-৭০% অ্যালকোহল থাকে তার সাথে থাকে এমোলিয়েন্ট নামে এক ধরণের পদার্থ যেটা ত্বককে নরম রাখে।

রুপার জল

রুপার ক্ষুদ্র কণিকা মেশানো থাকে এমন একটি জল হচ্ছে কলোইডিয়াল সিলভার।

মার্কিন টেলি-ইভানজেলিস্ট ধর্মপ্রচারক জিম বেকার এই জল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

তার এক অনুষ্ঠানে একজন অতিথি দাবি করে বসেন যে এই জল কয়েক ধরণের করোনাভাইরাস মেরে ফেলতে সক্ষম।

অবশ্য তিনি স্বীকার করেন যে কোভিড-১৯ এর ওপর এটা পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

কলোইডিয়াল সিলভারের সমর্থকরা দাবি করেন যে এটা অ্যান্টিসেপটিক, এবং নানা ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহার করা চলে।

কিন্তু মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার ভাষায় বলেছে, এই ধরনের রূপা ব্যবহার করে স্বাস্থ্যের কোন উপকার হয় না। বরং এর ব্যবহারে কিডনির ক্ষতি হতে পারে ও লোকে জ্ঞান হারাতে পারে।

তারা বলে, লোহা এবং জিংক যেমন মানব দেহের জন্য উপকারী, রূপা তেমনটা নয়।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ