ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোন ধরণের চা পান করা ভালো?

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

সারাবিশ্বে অনেক ধরণের চা উৎপাদন হলেও তার মধ্যে গুটিকয়েক ধরণের চা রয়েছে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই কার্যকারী।

এসকল চা রক্তে সুগার কনট্রোল করতে সাহায্য করে, ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যা কিনা একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য এসব মেইনটেইন রাখা অত্যন্ত জরুরী।

তাই, আমরা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কোন ধরণের চা পান করা প্রয়োজন। এবং কীভাবে পান করলে একজন ডায়াবেটিস রোগীর কোনো সমস্যা হবে না।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোন ধরণের চা পান করা ভালো?

যেভাবে ডায়াবেটিস কনট্রোলে চা সাহায্য করে

পৃথিবীতে পানির পর চা সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রতিদিন পান করে থাকেন। তাই চায়ের মধ্যে অনেক ধরণ থাকলেও স্পেশালি ক্যামেলিয়া সিনেনসিস প্রজাতির মধ্যে যে সকল চা রয়েছে যেমন: ব্লাক টি, গ্রিন টি, অলং টি এবং হার্বাল টি এর মধ্যে পেপারমিন্ট (গোলমরিচ) চা এবং ক্যামোমাইল চা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

এসকল চায়ের মধ্যে পলিফেনলস থাকার ফলে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে এমনটাই রিসার্সের মধ্যে থেকে জানা গিয়েছে।

কিন্তু ২০০২ সালের আমেরিকান স্টাডি থেকে জানা গিয়েছে, চায়ে দুধ মিশ্রণ করার ফলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমিয়ে ফেলে। যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মোটেই উচিত নয় চায়ের সাথে দুধ মিশ্রণ করা। শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যই নয়, চায়ের সাথে দুধ মিশ্রণ করে পান করা কারোর জন্যই ভালো নয়।

ডায়াবেটিস রোগীরা যে চা পান করতে পারবেন

এখন আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো কোন ধরণের চা পান করা উচিত একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য।

ডায়াবেটিস চা

শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই সকল চা প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। বিশ্বের সকল দেশেই শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চা পাওয়া যায়। আমাদের বাংলাদেশেও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন, বর্তমানে আলাদিনের কাছে এই ডায়াবেটিস চা রয়েছে।

এই চা টাইপ ২ ডায়াবেটিস কনট্রোল করতে সাহায্য করবে। শরীরের ওজন কমাতেও এই চা খুবই কার্যকারী। এই চা পান করার আরেকটি বড় সুবিধা হলো, যারা নিয়মিত ইনসুলিন নিয়ে থাকেন তাদের ইনসুলিনের উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।

এই চা প্রস্তুত করা একেবারেই সহজ। ১ কাপ ফুটন্ত গরম পানিতে ১টি টি ব্যাগ দিয়ে ২-৩ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর টি ব্যাগ পানিতে থেকে সরিয়ে একটু নাড়াচাড়া দিয়ে পান করুণ। আগেই বলেছি, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চায়ের সাথে চিনি এবং দুধ মিশ্রণ করা উচিত নয়।

গ্রিন টি

গ্রিন টি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য সব সময়েই ভালো। কিন্তু স্পেশালি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গ্রিন টি অত্যন্ত কার্যকর। যেমন: প্রতিদিন গ্রিন টি পান করলে সেলুলালের ক্ষতি হওয়া হ্রাস করে, ইমফ্লেমেশন হ্রাস করে এবং রক্তে সুগারের পরিমাণ হ্রাস করে।

একটি মেডিক্যাল স্টাডিতে ১১৩৩ জন মানুষ নির্বাচন করা হয়। যেখানে ডায়াবেটিস রোগী ছিলো এবং ডায়াবেটিস ছাড়াও মানুষ ছিলো। সে স্টাডি থেকে জনা গিয়েছে, প্রতিদিন গ্রিন টি পান করলে রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে এবং হিমোগ্লোবিন A1c (HbA1c) যা কিনা লং টার্ম রক্তে সুগার কনট্রোল করতে সাহায্য করে।

এছাড়াও প্রতিদিন গ্রিন টি পানে ডায়াবেটিস হওয়া থেকেও মুক্তি মেলে। এই গ্রিন টি আমাদের দেশের মুদি দকান থেকে শুরু করে সকল সুপার শপেও এখন পাওয়া যাচ্ছে। তবে, আমাদের কাছে ডায়াবেটিস চা ছাড়াও একেবারে অর্গানিক গ্রিন টিও এখন পাওয়া যাচ্ছে।

ব্ল্যাক টি

ব্লাক টি তে রয়েছে উদ্ভিদজ গুণাগুণ থিয়াফ্লেভিনস এবং থিয়ারুবিগিনস। যা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং রক্তে সুগার কমাতে সাহায্য করে থাকে।

২৪ জন ডায়াবেটিস রোগী নিয়ে একটি স্টাডি করা হলে স্টাডির মধ্যে থেকে জানা যায়, প্রতিদিন ব্ল্যাক চা পান করার ফলে শরিরে কার্ব শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে এনে রক্তের সুগার কনট্রোল রাখতে সাহায্য করে।

দারুচিনি চা

জনপ্রিয় মশলার মধ্যে দারুচিনি ডায়াবেটিক না হবার গুণাগুণ রাখে। অনেক ডায়াবেটিস রোগীই তাদের সুগার লেভেল ঠিক রাখার জন্য চায়ের সাথে দারুচিনি মিশ্রণ করে পান করে থাকে।

একটি স্টাডি থেকে পাওয়া গেছে, যাদের ডায়াবেটিস নেই এমন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৬ গ্রাম করে টানা ৪০ দিন দারুচিনি সেবন করলে গ্লুকোজ কনট্রোল রাখতে সাহায্য করে।

হলুদ চা

ব্লাড সুগার হ্রাস করার জন্য যেসকল গুণাগুণ প্রয়োজন তার সবই রয়েছে হলুদের মধ্যে। ২০২০ সালে একটি স্টাডির মাধ্যমে জানা গিয়েছে, নিয়মিত হলুদ চা পানে পরিমাণে ব্লাড সুগার কনট্রোল রাখার ক্ষমতা রয়েছে এবং ব্লাড লিপিড কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়াও কিডনির সুস্থতার জন্য নিয়মিত হলুদ চা পান করা যেতে পারে। শুধু চা নয়, খাবারের মধ্যেও পরিমিতি হলুদ মশলা থাকাও স্বাস্থ্যকর।

আরো যেসকল চা পান করা যাবে

ডায়াবেটিস চা, গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি, দারুচিনি চা ও হলুদ চা ছাড়াও আরও কয়েক ধরণের চা রয়েছে যা ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত পান করতে পারে। তার মধ্যে:

  • Lemon balm tea (লেমন বাম চা)
  • Chamomile tea (ক্যামোমাইল চা)
  • Oolong tea (অলং চা)
  • Ginger tea (আদা চা)

যেভাবে চা পান করতে হবে

উপরের সকল চা’তেই রয়েছে স্বাস্থ্যকর গুণাগুণ। কিন্তু এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে এই চা আপনি পান করছেন তার উপর। কেননা, চা পান করলেই ব্লাড সুগার কনট্রোলে থাকবে তা কিন্তু নয়!

কারণ, আমরা অনেকেই চায়ের সাথে চিনি কিংবা মদু মিশ্রণ করতে পছন্দ করি চায়ে স্বাদ আনার জন্য। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীরা যখন নিয়মিত চা পান করবে ডায়াবেটিস কনট্রোলে রাখার জন্য তখন অবশ্যই কিছু জিনিস মনে রাখতে হবে।

যেমন, চায়ের সাথে কখনই চিনি, মধু, দুধ এবং চা মিষ্টি করতে সাহায্য করে এমন কোনো কিছুই ব্যবহার করা যাবে না।

এছাড়াও, ডায়াবেটিসের জন্য হার্বাল জাতিয় চা বাজার হতে ক্রয় করার সময় দেখে নিতে হবে আপনি কোন ধরণের হার্বাল চা ক্রয় করতে চাচ্ছেন। কারণ, প্রায়ই দেখা গিয়েছি এলোভেরা, প্রিকলি পিয়ার, জিমনেমা সিলভেস্ত্রা এসকল হার্বাল চা সকল ডায়াবেটিসের জন্য কাজে লাগে না। এগুলো ব্লাড সুগার বৃদ্ধি করে ফেলে।

তাই বিশ্বস্ত স্থান হতেই ডায়াবেটিসের চা ক্রয় করতে পারেন। আর বিশ্বস্তের কথা এলে, ডায়াবেটিস চায়ের জন্য আলাদিনের কাছ হতে ক্রয় করতে পারেন।

এই চা শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যই অর্গানিক ভাবে তৈরি করা হয়েছে। একবার ট্রাই করে না হয় দেখতেই পারেন।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ