এবার উকুন ও খুশকি দূর হবে নিম তেলের মাধ্যমে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

ত্বকের পাশাপাশি চুলের পরিচর্যাতেও সমানভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে নিম পাতা রস। চুলে নিম পাতা বা নিম তেল সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি চুলের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে সুস্থ সবল চুল প্রদান করে এবং নিম পাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং ইমিউন বুস্টিং বৈশিষ্ট্যগুলি চুলকে সুস্থ রাখে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

নিম তেল

নিম পাতা চুল পড়া কমাতে সহায়তা করে থাকে। নিম তেল দিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করলে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যার ফলে চুলের বৃদ্ধির হার বেড়ে ওঠে। নিম তেলের সাথে জলপাই, নারকেল কিংবা জোজোবা তেল মিশ্রণ করে মাথায় ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়াও নিম পাতার পেস্ট মাথায় লাগাতে পারেন। যা চুলকে জীবাণুমুক্ত রেখে সুস্থ সবল করে তুলবে চুল। নিম যেমন শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা প্রদান করে, তেমনি রুক্ষ চুলেও আর্দ্রতা প্রদান করে থাকে। এছাড়াও, চুলকে উকুন এবং খুশকির সমস্যাগুলি থেকে দূরে রাখে এবং এটি মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মূলত নিম গুড়ার সাথে শিকাকাই গুঁড়ো, পানি এবং লেবুর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে শ্যাম্পু করার ৩০ মিনিট আগে চুলে ব্যবহার করুন এটি চুলের আদ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে। এছাড়াও যাদের অকালপক্কতা কিংবা টাক পড়ে যাবার মতন সমস্যা দেখা দিয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও একমাত্র সমাধান নিম।

নিম চুলকে শক্তিশালী করে হারিয়ে যাওয়া চুলের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। এছাড়াও নিমের নিয়মিত ব্যবহার চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে নতুন চুল গজাতেও সহায়তা করে। আসুন জেনে নেই উকুন ও খুশকি দূর করতে ঘরোয়া নিয়মে নিমের ব্যবহার:

উকুন কমাতে নিমের ব্যবহার:

১. নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে নিয়ে মাথার তালুতে ভালো করে মাখিয়ে নিন।

২. এবার শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে এটি দু-তিন ঘণ্টা রেখে দিন।

৩. তারপর ভালো করে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৪. শ্যাম্পু করার পর উকুনের চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ে নিন।

৫. সপ্তাহে দু-তিনবার করে টানা দু’মাস এটি ব্যবহার করুন এর ফলে চুল থেকে পুরোপুরি ভাবে উকুন দূর হয়ে যাবে।

৬.  নারকেল তেলের সাথে নিমপাতা ভালো করে সিদ্ধ করে নিয়ে যতক্ষণ না পাতার রং বিবর্ণ হচ্ছে ততক্ষণ নারকেল তেলে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন।

৭. এরপর তেল ঢেলে নিয়ে ঠাণ্ডা করে মাথায় লাগিয়ে দু ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।

৮. তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন এবং উকুনের চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ে নিন।

৯. সপ্তাহে তিনদিন এটি ব্যবহার করুন একমাসেই তফাৎ বুঝতে পারবেন।

খুশকি নিরাময়ে নিমের ব্যবহার:

১. একবাটি পানিতে ১০-১২টি নিম পাতা নিয়ে ভালো করে সিদ্ধ করে নিন।

২. এবার পানি ঠাণ্ডা করে শ্যাম্পু করার সময় এই পানি দিয়ে ভালো করে চুলে মাসাজ করে নিন। প্রতি সপ্তাহে দুদিন এটি করুন দেখবেন খুশকি দূর হয়ে যাবে।

৩. এছাড়াও নিমপাতা ভালো করে বেটে নিয়ে মাথার চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। দেখবেন চুল পড়া কমবে তার পাশাপাশি খুশকির সমস্যাও দূর হবে। এর পাশাপাশি চুল নরম এবং কোমল হবে।

৪. মধু এবং নিম পাতার রস একসাথে মিশিয়ে সপ্তাহে তিনদিন চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান দেখবেন এরপরে চুল চকচক করবে।

৫. এছাড়াও আমলকির রস, নিম পাতার রস, লেবুর রস এবং টকদই মিশিয়ে সপ্তাহে দুদিন চুলে লাগিয়ে শ্যাম্পু করে নিন। এটি চুলে কন্ডিশনার-এর কাজ করবে।

এতক্ষণ আমরা জেনে নিলাম ঘরোয়া নিয়মে নিমের সাহায্যে কীভাবে চুলের উকুন ও খুশকি দূর করা যায়। ঘর-অফিস-সন্তান-রান্না বাদে নিম তেল তৈরি করার মতন সময় কী আমাদের মা-বোনদের হবে? কেননা, উপরের এই ঘরোয়া নিয়মে উকুন ও খুশকি দূর করতে গিয়ে অনেকটা সময় চলে যাবে নিম তেল তৈরি করতে।

তাই তো আমাদের মা-বোনদের সেই সময় এবং কষ্টকে দূর করতে আমাদের কাছে রয়েছে নিমের তেল। ঘরোয়া নিয়মে নিম পাতা ব্যবহার করলে যে উপকারিতা গুলো পাচ্ছেন তা সম্পূর্ণ এই নিম তেলের মাধ্যমেও পাচ্ছেন। সাথে সময় এবং শ্রমটুকুও বাঁচবে।

নিম তেলের কার্যকারিতাঃ

১. অ্যান্টি ফাংগাল ও ব্যাকটেরিয়াল ক্যানডিডা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে, উঁকুন, খুশকি, ফুসকুড়ি হওয়া,ইনফেকশেন থেকে রক্ষা করে।

২. অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রক্ত সঞ্চলন বাড়ায় ও চুলের পি এইচ ভারসাম্য, চুল পড়া ও ভাঙা প্রতিরোধ এবং চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

৩. উচ্চ মাত্রায় ফ্যাটি অ্যাসিড চুলকে কান্ডিশনিং, নরম ও ফুরফুরে করে।

৪. নিম্বিডল ও জেডুনিন ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে অ্যাকজিমা প্রতিকার ও প্রতিরোধ করে,মাথার ও ত্বকের চুলকানি কমায় এবং অতিরিক্ত মেলানিন তৈরিতে বাধা দেয়।

৫. শরীরের খুব দূর্গন্ধ , স্কিন ইরিটেশন ও চুলকানি প্রতিরোধে খুব ভাল ভূমিকা রাখে।

৬. অ্যান্টি মাক্রোবাইয়াল উপাদান ক্ষত নিরাময়ে দ্রুত কাজ করবে।

৭. ট্রাইগ্লিসারাইড, ট্রাইটার পিনয়েড, ভিটামিন ই শরীর ও চামড়ার নিচে , বাত মাথা ব্যাথা ম্যাসাজ বেশ উপকারী।

৮. ভিটামিন ই ও বি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়া, ফসফরাস ও প্রোটিন নতুন চুল গজায়, গোড়া শক্ত হয়, রুক্ষতা সমস্যা দূর হয়।

৯. স্কীন ক্যান্সার নিরাময়ে নিম তেলের ভূমিকা অতুলনীয়।

১০. সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি এবং DNA এর ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করে।

উপাদান

নিম তেল, তিলের তেল, সূর্যমুখী তেল, মিনারেল অয়েল, পারমিউম ইত্যাদি।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ