পানির নিচে খুজে পাওয়া পাঁচটি গুপ্তধনের গল্প

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে আসছি যে পৃথিবীর তিন ভাগ পানি আর এক ভাগ স্থল। এত বিপুল পরিমাণ পানির নিচে কি আছে তা আমাদের কোনদিন জানা সম্ভব হয়নি।

প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন ঝড়ের মুখে লক্ষ-কোটি জাহাজ সমুদ্রে ডুবে গেছে। সে জাহাজগুলোর কোন কোন টি তে ছিল বিভিন্ন রত্ন এবং সম্পদে ভরপুর।

পানির নিচে সেই রত্ন এবং সোনা দানা এখন গুপ্তধনে পরিণত হয়েছে। হাজার ফুট গভীরে সেই গুপ্তধন উদ্ধার করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে অনেকে৷

কখনো কখনো ভাগ্য ভালো হলে পেয়েও যান সেই অমূল্য রতন। প্রিয় পাঠক আপনাদের আজ জানাতে যাচ্ছি পানির নিচে উদ্ধার করা পাঁচটি গুপ্তধন এর কথা।

যেগুলোর মূল্য শুনলে হয়তো আপনি আঁতকে উঠবেন ৷

১) সান জোসে

আমাদের লিস্টে সব চেয়ে দামী এবং মূল্যবান গুপ্তধন আবিষ্কার করা হয়েছিল সান জোসে নামক জাহাজ টি থেকে। এটি একটি স্প্যানিশ জাহাজ ছিল।

যেটি ১৭০৮ সালের দিকে কলম্বিয়ার কাছে ডুবে যায়। প্রায় ৩০০ বছর পর ২৭ শে নভেম্বর ২০১৫ সালে একদল আন্তর্জাতিক গবেষক এ জাহাজটিকে পুনরায় খুঁজে পায়।

৩০০ বছর পরে জাহাজটির অবস্থা খুব বেহাল ছিল। তারা ধারণা করেছিল যে হয়তো এই জাহাজটির ভিতরে কিছুই তেমন পাওয়া যাবে না।

কিন্তু তাদের ধারণা একেবারে ভুল ছিল। যখন ডুবুরি দল সে জাহাজটির ভিতরে প্রবেশ করে তখন তারা জাহাজের ভিতরে কিছু অসাধারণ জিনিস লক্ষ্য করে। আর সেগুলির কাছে গিয়ে তারা আবিষ্কার করে ফেলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুপ্তধন টি ৷

যার বর্তমান মূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার৷ এই গুপ্তধন গুলির মধ্যে ছিল হাজার হাজার টন সোনা রুপা এবং বিশাল ড্রামের মধ্যে লাখ লাখ পিস পান্না।

গুপ্তধনের সোনা এবং রুপা নাম্বার দিয়ে শুধুমাত্র পান্নার দাম হিসাব করলে যেকোনো গুপ্তধনের চেয়ে এই গুপ্তধনের মূল্য কয়েকগুণ বেশি হবে।

২) থনিস হারাক্লিওন এর গুপ্তধনঃ

এটি প্রাচীন সাম্রাজ্যের একটি শহরের নাম। এই শহরটি ৪ শতকের দিকে বিশাল একটি বন্যায় পানির নিচে তলিয়ে যায়।

এরপর থেকে বারোশো বছরে শহরটি আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। কয়েক বছর আগে একদল গুপ্তধন শিকারি শহরটিকে পানির নিচে আবিষ্কার করে ফেলেন।

এই শহরটি ছিল প্রায় 40 বর্গ কিলোমিটার জুড়ে। ডুবুরিরা এই 40 বর্গকিলোমিটার জুড়ে নানান ধরনের গুপ্তধন আবিষ্কার করে।

এই শহরে থাকা গুপ্তধন গুলোর মধ্যে আছে বিশাল বিশাল আকৃতির অসাধারণ সব মূর্তি। ফারাও এর অমূল্য ছোট ছোট মূর্তি বিভিন্ন ধরনের সোনার অলংকার এবং বিভিন্ন পাথর।

সোনা-রুপার অলঙ্কারগুলো এবং রত্ন পাথর গুলোর দাম শুনলে বিশাল বিশাল ধনী লোক গুলো তা কিনতে ভয় পাবেন। এর দাম আসলেই এত!

তবে সেখানে ফারাওয়ের একটি ছোট মুক্তি আবিষ্কার করা হয়। যে মূর্তি টির দাম এবং গুরুত্ব একেবারে আকাশছোঁয়া।

এই মূর্তি টি পড়ে প্যারিসে জনসম্মুখে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একসাথে হিসাব করলে শহরের সবগুলো গুপ্তধনের মূল্য প্রায় 7 থেকে 10 বিলিয়ন ডলার হবে।

৩) এইচ এম এস ভিক্টরী জাহাজের গুপ্তধন

এই জাহাজটি কে ১৭০০ সালের দিকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ জাহাজ বলা হয়। এই জাহাজটি ছিল ব্রিটিশ নেভী ফোর্সের।

এই জাহাজটি তার সৌন্দর্য ও আধুনিকতার জন্য যেকোনো দেশের নেভি ফোর্স এ জাহাজটি পেতে চাইতো।

১৭৪৪ সালের দিকে জাহাজটি ইংলিশ চ্যানেল এর কাছে হঠাৎ করে ডুবে যায়। আর ওই জাহাজটিতে তখন কি কি ছিল তা কখনোই ধারণা করা যায়নি।

কিন্তু ২০০৯ সালে ফ্লোরিডার গুপ্তধন সন্ধানকারীর একটি দল ভিক্টোরিয়া জাহাজটি আবার আবিষ্কার করে ফেলে।

জাহাজটিতে যখন ডুবুরি দল পাঠানো হয় তখন এর মধ্যে থাকা গুপ্তধন দেখে তারা চমকে উঠে। এই জাহাজটিতে সোনা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

পুরো জাহাজ টি জুড়ে স্বর্ণ আর স্বর্ণে ভরপুর ছিল। ধারনা করা হয় জাহাজটির সব সোনার মূল্য বর্তমান বাজারে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

৪) এন্টিকেথেরা কম্পিউটার আবিষ্কার

আপনারা হয়তো ভাবছেন গুপ্তধনের মধ্যে আবার কম্পিউটার এলো কিভাবে? হ্যাঁ প্রিয় পাঠক আমাদের এই লিস্টে একটি কম্পিউটারে স্থান রয়েছে প্রায় ১১৫ বছর আগে।

যখন কম্পিউটারের ধারণা মানুষের একেবারেই ছিল না ঠিক তখনই গ্রিক আইল্যান্ডের নিচে একদল গুপ্তধন সন্ধানকারি আবিষ্কার করেন পৃথিবীর সর্বপ্রথম এই কম্পিউটার সিস্টেম।

ধারণা করা হয় এই কম্পিউটার সিস্টেমটি প্রথম শতকের দিকে গ্রিসে তৈরি হয়েছিল৷

প্রথম প্রথম বুঝা যাচ্ছিল না এ কম্পিউটার দিয়ে আসলে কি করা হত ? ১৯৬০ সালে একজন গবেষক বের করে ফেলেন এই কম্পিউটার সিস্টেম দিয়ে আসলে চাঁদ এবং তারার খুব সঠিক ভাবে স্থান নির্ণয় করা সম্ভব ছিল।

২ হাজার বছর আগে মানুষ কিভাবে এত দক্ষতার সাথে এই কম্পিউটার সিস্টেম কে আবিষ্কার করেছিল তা ভেবে এখনো গবেষকরা অবাক হয়ে যায়।

আর তাই এই কম্পিউটার সিস্টেম টি পৃথিবীর অন্যতম গুপ্তধন ধারণা করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার।

৫) আটলান্টিক মহাসাগরে সর্ব বৃহৎ গুপ্তধন

ঘটনাটি ২০০৭ সালের। একটি প্রাইভেট গুপ্তধন শিকারি কোম্পানি আটলান্টিক মহাসাগরের সবচেয়ে গভীর একটি গুপ্তধনের সন্ধান পায়।

তাতে খুঁজে পাওয়া গুপ্তধন টি এত পুরনো আর দামি যে তা হয়তো তারা সে মুহূর্তে কল্পনাও করতে পারেনি।

যখন তাদের ডুবুরী দল গুপ্তধনটির কাছাকাছি যায় তখন তারা বুঝতে পারে যে তারা আটলান্টিক মহাসাগরের সবচেয়ে দামী গুপ্তধনটি আবিষ্কার করে ফেলেছে।

তারা সমুদ্রের নিচে বালিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রায় 50 মিলিয়ন ডলারের সোনা এবং রুপার কয়েন আবিষ্কার করে।

আর গুপ্তধনের খনিটি এত বিশাল ছিল যে তা হয়তো আপনি আপনার কল্পনাতেও আনতে পারবেন না । তবে একটি জিনিস কিন্তু খুব ভাববার মতন।

এই গুপ্তধনটির কাছে কোন প্রকার জাহাজ ছিলনা। গবেষকরা মনে করে কোন একটি জাহাজ প্রায় পনেরশো বছর আগে এখানে ডুবে গিয়েছিল যার কারণে এই জাহাজের কাঠ পানিতে পচে গলে উধাও হয়ে গেছে।

আর সেই খানে পড়ে রয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের গুপ্তধন।

প্রিয় পাঠক আপনি যদি হঠাৎ কোনো গুপ্তধনের সন্ধান পান তাহলে আপনি কি করবেন? আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান |

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3546031