প্রকৃতিতে করোনার পজেটিভ প্রভাব

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

পুরো পৃথিবী জুড়ে করোনা’র প্রভাবকে নেতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে; অথচ এই ভাইরাস তথা সকল কিছুরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবই থাকে। আসুন আমরা সকলে করোনা ইতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।
পৃথিবীজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভ্রমণ হ্রাস ও ব্যবসা কল কারখানা বন্ধের কারণে সারা বিশ্বজুড়ে পরিবেশ দূষণের মাত্রা হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবেশ সমৃদ্ধ হচ্ছে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অক্সিজেন এর মাত্রা ব্যালেন্সড হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সর্বত্র মানুষ নিজেকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখছে যার ফলে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রকৃতির দূষণ সমূহ কমে আসছে; যার সুফল তাৎক্ষণিক পাওয়তা যাচ্ছে, এই ফলাফলগুলো যদি প্র্যাকটিসে রাখা সম্ভব হয় তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যে ইতিবাচক।
করোনা ভাইরাস ডিসেম্বরের শুরুর দিকে তার ক্ষমতা দেখানো শুরু করে চীনের উহান শহরে; ঐ শহরটির আকাশ তখন ভয়ানক রকমের বায়ু দূষণের কারণে নীল আকাশ দেখা যেত না; প্রতিদিনের বায়ুদুষনের ফলে উহান শহরে মানুষ শেষ কবে নীল আকাশ দেখেছিলো তারা সেই ইতিহাস ভুলে গেছে। অথচ মাত্র কয়েকদিন লকডাউন থাকার কারণে শহরটিতে আশ্চর্য ভাবে প্রাকৃতিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবং এই স্মৃতিটিই সকলের সাথে শেয়ার করেছেন উহানের এক আদিবাসী তার টুইটার একাউন্টে টুইট করেছেন এভাবে:-

“আমি চীনের সেন্ট্রাল শহর উহানে বসবাস করি
আজকের আবহাওয়া খুব সুন্দর আকাশ নীলাকাশ
ধারণ করেছে এবং গাছগুলি সবুজ আকার ধারণ
করেছে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরে
আমাদের শহরটি অনেক সুন্দর হয়ে গেছে”

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ESA)’র তথ্য অনুযায়ী ইতালি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ গুলিতে লক্ষণীয়ভাবে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এর মাত্রা কমে গেছে; ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি জানুয়ারি ও মার্চ-২০২০ সালের দুটি ছবি শেয়ার করেছেন ছবি দুটি’তে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে করোনা ভাইরাসের এই লকডাউন সময়ে কি পরিমাণ নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এর মাত্রা কমানো সম্ভব হয়েছে।

নিচে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি’র প্রকাশিত জানুয়ারি ও মার্চ মাসের দুটি ছবি দেওয়া হয়েছে। 

European Space Agency (ESA) satellite data from January.-2020
European Space Agency (ESA) satellite data from March-2020

ভেনিসে নৌকা ও ক্রুজ জাহাজ থেকে পানির দুষণ হ্রাসের পরে বাসিন্দারা লক্ষ্য করেছেন সাধারণত নোংরা পানি ধীরে ধীরে স্বচ্ছ হয়ে উঠছে; অবিশ্বাস্যভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ডলফিন গুলি খালের পানিতে সাঁতার কাটতে শুরু করেছে এবং সাথে রাজহাঁস গুলো যোগ দিয়েছে। একজন টুইটার ব্যবহারকারী বর্ণনা করেছেন-
“এখানে করোনা ভাইরাসের অপ্রত্যাশিত
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই প্রথমবারের মতো
ভেনিসের ক্যানেল গুলোতে স্বচ্ছ জল প্রবাহিত হচ্ছে।
মাছ গুলির গতিবিধি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে;
ফিরে এসেছে রাজহাঁস গুলো।”

ভ্যানিসের জলধারা

এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রকৃতি মানুষের অভ্যাস পরিবর্তনের সাথে নিজেকে যেভাবে মানিয়ে নিয়েছে সত্যিই অবিশ্বাস্য! এখন দেখার বিষয় করোনা মহামারী প্রাদুর্ভাব কমে গেলে মানুষ কিভাবে পরিবেশের নীতিগুলি বাস্তবায়ন করবে। পরোক্ষভাবে একটা বাস্তব শিক্ষা দিয়ে গেল এই করোনাভাইরাস।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, কোভিড- 19 এর প্রাদুর্ভাব একটি “স্পষ্ট সতর্কবার্তা ” যে এর চেয়ে আরো মারাত্মক রোগের বাহক হচ্ছে আমাদের চারপাশে বন্যপ্রাণী গুলি এবং আমরা সেই বন্যপ্রাণীদের ভক্ষণ করে “আগুনের সাথে খেলছি” |

তারা আরও বলেন ভবিষ্যতে আরো এ ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ, কৃষিকাজ,খনন ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ কে ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ বন জঙ্গল এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়লে বন্যপ্রাণী গুলি লোকালয়ে চলে আসে আর এভাবে আরো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়৷

তারা কর্তৃপক্ষকে এই বলে হুশিয়ারি করেন যে, জীবন্ত বন্যপ্রাণী বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করতে হবে কারণ এই জীবন্ত বন্যপ্রাণী গুলি রোগ বাহন এর জন্য একটি আদর্শ বাহক হিসেবে কাজ করে। তার সাথে এই বৈশ্বিক প্রাণী বাণিজ্য কে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য জোর দাবি জানান।

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ডারসন বলেছেন তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হল মানুষকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করা এবং এর বিস্তার রোধ করা৷ তিনি আরো বলেছেন যে সমস্ত উদীয়মান সংক্রামক রোগ 75% বন্যজীবন থেকেই আসে।
তিনি আরো বলেন অস্ট্রেলিয়ার বুশফায়ার, বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং কেনিয়ায় পঙ্গপালের আক্রমন এই সবকিছুই পরিবেশের বিরূপ প্রভাবের ফল | দিনশেষে, এই সমস্ত ঘটনা আমাদেরকে একটি সতর্কবার্তা দেয়।

আমরা যদি এখনো এই মহামারী টিকে একটি নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে ধরে নিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকি সেটা হবে আমাদের সবচেয়ে বড় মূর্খতা কারণ এরপরে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও ভয়াবহ দুঃসংবাদ |

তাই আসুন এই দুর্দিনে আমরা প্রতিজ্ঞা করি আমাদের উদাসীন মনোভাব ও বিলাসবহুল জীবনযাপন যেন উল্টো আমাদেরই ক্ষতির কারন না হয়ে দাঁড়ায়।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ