প্রাণীদের যত অদ্ভুত আচরন

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

পৃথিবীতে যে কত হাজার হাজার রকম প্রাণী রয়েছে তা আমরা আজও জানি না৷ এর মধ্যে কিছু আবিষ্কৃত হয়েছে আর কিছু প্রাণী রয়েছে মানুষের চোখের আড়ালে৷ বিভিন্ন রকম প্রাণী দেখতে যেমন অদ্ভুত হয় তেমনি অদ্ভুত হয় এদের আচার-আচরণ ও চালচলন৷

আজকের লেখায় আমরা জানতে যাচ্ছি পৃথিবীর কিছু প্রাণীর অদ্ভুত আচরণ সম্পর্কে৷ যাদের চালচলন দেখলে হয়তো আপনি অবাক হয়ে যাবেন৷

১) Woodpeacker Stash: কাঠ ঠোকরার মাথা ঘোরা

কাঠঠোকরা পাখি দেখেননি এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না৷ এরা নিজেদের কাঠের ঠোঁট দিয়ে একের পর এক ঠোকর মারতে থাকে।

আপনার হয়তো মনে হতে পারে এতবার করে ঠোঁট ঠোকার কারণে এদের মাথা কি ঘুরে না?

উত্তর কিন্তু না৷ এদের মাথায় কোন মাইগ্রেন নেই যার কারণে মাথাব্যথা হয় না৷

আবার কখনো কখনো হয়তো আপনার মনে হতে পারে একটি কাঠঠোকরা পাখি এত গর্ত দিয়ে কি করে?

উত্তর হচ্ছে এরা সব গর্তে এরা থাকে না৷ এরা একটি বড় গর্ত করে নিজে থাকার জন্য৷

আর বাকি সব গর্ত করে থাকে খাবার লুকিয়ে রাখার জন্য৷ এ গর্তগুলো এতটা চিকন হয় যে অন্য কোন প্রাণী এই করতে ঢুকে খাবার চুরি করতে পারেনা৷

একমাত্র কাঠঠোকরা রাই গর্তে ঢুকে খাবার বের করে আনতে পারে৷

২) Animal Hypnosis

হিপনোটাইজ করা মানে তো আমরা সবাই জানি৷ এটি কে সহজ বাংলায় বলে সম্মোহিত করা৷

এক কথায় ব্যক্তিকে জাদুকরী বসে এনে ফেলা৷ সিনেমায় তো আমরা হরহামেশাই দেখেছি হিপনোটাইজিং এর মাধ্যমে কাউকে নিজের বশে আনা৷

সত্যি কথা বলতে বাস্তবে মানুষকে সম্মোহিত করা সম্ভব বা অসম্ভব যাই হোক না কেন তা অনেক কষ্টকর হওয়ার কথা৷

তবে আপনি চাইলে কিন্তু কিছু কিছু প্রাণীদের সম্মোহিত করে ফেলতে পারেন৷ এই যেমন ধরেন মুরগির কথা৷

সত্যি কথা বলতে একটি মুরগিকে সম্মোহিত করা খুব সহজ কাজ৷ এজন্য আপনাকে মুরগির চোখের সামনে পেন্ডুলাম দোলাতে হবে না কিংবা হাত নেড়ে নেড়ে ঘুম পাড়াতে হবে না৷

আপনার শুধু একটি চক লাগবে৷ চক না থাকলেও কোন অসুবিধা নেই৷

আপনি শুধু মুরগীটিকে একটি সমান জায়গায় রাখুন এবং মুরগির চোখের সামনে লম্বা সোজা একটি দাগ দিন৷

ব্যাস বসে বসে জাদু দেখুন৷ দেখবেন মুরগিটি এক পলকে সেই দাগের দিকে তাকিয়ে রয়েছে একটু নড়াচড়া বা চোখের পলক ফেলছে না৷

এরপর আপনি মুরগিটিকে ছেড়ে দিল মুরগিটি দৌড়ে পালিয়ে যাবে না৷

মুরগিটিকে এ অবস্থা থেকে ফেরাতে হলে একটি জোরে শব্দ করুন তাহলেই মুরগির সম্মোহন থেকে ফিরে আসবে৷

তবে এখনো পর্যন্ত বের করা সম্ভব হয়নি মুরগিটি ঠিক কী কারণে এভাবে সম্মোহিত হয়৷

৩) Listen With Feet: পা দিয়ে শোনা

পা দিয়ে শোনা এই অদ্ভুত কাজটি করতে পারে একমাত্র হাতি প্রজাতির প্রাণী। আপনি হয়তো হাতির এত বড় কান দেখে মনে করবেন তারা হয়তো খুব ভালোভাবে শুনতে পারে।

কিন্তু আপনি ভুল ভাবছেন। হাতির এত বড় কান থাকা সত্ত্বেও এরা কান দিয়ে ততটা ভালোভাবে শুনতে পায় না। হাতি যোগাযোগ করার জন্য এরা ব্যবহার করে এদের পা কে।

২০০৬ সালে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক প্রমাণ করেন যে হাতি মূলত পা দিয়ে শুনে থাকে।

হাতি তার বিশাল পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করে আর এই শব্দের সাথে এক ধরনের বিশেষ সংকেত পাঠায়। অন্য হাতি তার পা দিয়েই সংকেত মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। আর এভাবেই হাতি পা দিয়ে যোগাযোগ করতে পারে।

মাটিতে শব্দ মাটিতে হওয়ার শব্দ অনুভব করার জন্য হাতির পায়ে এক ধরনের বিশেষ স্নায়ুতন্ত্র থাকে। যার সাহায্যে হাতে খুব সহজে তার কানের কাজ সেরে ফেলতে পারে।

৪) Captain America Effect

ক্যাপ্টেন আমেরিকা মুভি তে আমরা একদম শেষের দিকে দেখেছি ক্যাপ্টেন প্রায় ৭০ বছর ঘুমিয়ে থেকে আগের মত চেহারা নিয়ে উঠে।

আর তাঁর চেহারা কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ এমনকি তার শরীরের শক্তি ও আগের মতই ছিল।

বাস্তবে এমন হওয়া একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু এক ধরনের ব্যাঙ এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।

এই প্রজাতির ব্যাঙের নাম ট্রি ফ্রগ বা গেছো ব্যাঙ। এই ব্যঙ মারাত্মক ঠান্ডা গরমের সময় পার করার জন্য একটি বিশেষ উপায় তৈরি করে।

প্রতি বছর শীতের আগে এই ব্যাঙগুলো জলাশয় নেমে পড়ে পানির সাথে বরফ হয়ে যায়।

বরফ হওয়ার পরেই ব্যাঙ কিন্তু মারা যায় না। শুধুমাত্র তার দেহের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় তার শরীরের চর্বির আস্তরণ তার শরীরে শক্তির জোগান দেয়। এরপর যখন আস্তে আস্তে গরমকাল শুরু হয় ঠিক তখনই এরা আবার জলাশয় থেকে বের হয়ে আসে।

ইউনিভার্সিটি অফ আলাক্সার এক রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় এই ব্যাঙগুলো মাইনাস ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তেও প্রায় ছয় মাস পানির নিচে টিকে থাকতে পারে।

এই তাপমাত্রায় যে কোন প্রাণীর শরীরের কোষ ধ্বংস হয়ে গেলেও এই ব্যাংকটি কোন এক অজানা প্রক্রিয়ায় তার কোষকে টিকিয়ে রাখতে পারে।

তবে বিজ্ঞানীরা বলেন মূলত এই সময়ে ব্যাঙের শরীরের কোষগুলো গ্লুকোজ নিঃসরণ করে যার কারণে কোষগুলো এত সহজে মরে না।

যার ফলে গেছো ব্যাঙ ছয় মাস ধরে পানির নিচে দিব্যি ডুব দিয়ে থাকতে পারে।

৫) Kidnepper Ants

পিপড়াদের এই ছোট্ট রাজ্যে শান্তি নেই৷ লাল পিপড়া দের মধ্যে রয়েছে kidnepper ant বুঝতেই পারছেন এদের কাজ কি ?

হ্যাঁ কিডন্যাপ করাই এদের মূল কাজ৷ যখন সূর্য অস্ত যায় ঠিক তখন কমসে কম ১২০টি লাল পিঁপড়া দল বেধে বের হয়৷

তারপর এদের মূল উদ্দেশ্য খাবার খোঁজ করতে থাকা নয়৷ কারা একসাথে বের হয় কিডন্যাপ করার জন্য৷

লাল পিপড়া দের মূল আকর্ষণ থাকে কালো পিঁপড়ের বাসা মূলত এরা কালো পিপড়া দের বাসায় ওত পেতে থাকে আক্রমণ করে৷

তারপর কালো পিঁপড়ারা যদি একবার বুঝে যায় যে তাদের গর্তে আক্রমণ হবে তাহলে তারা তাদের গর্তের মুখ খড়কুটো দিয়ে ভরে দেয়৷

এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে লাল পিপড়া তাদের গর্তে ঢুকে যায়৷ আর কালো পিঁপড়াদের ডিম আর লার্ভা নিজেদের দখলে নিয়ে হয় খেয়ে ফেলে অথবা নষ্ট করে ফেলে৷

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ