ফ্যাসিবাদ-পুজিবাদ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

আমরা আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস যখন পড়ি খুবই আপ্লূত হয়ে যাই!কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে ইউরোপীয় এনলাইন্টমেন্ট ইতিহাস আর ফ্যাসিবাদের ইতিহাস মুদ্রার দুপিঠ। ফ্যাসিবাদ ইউরোপে আসমান থেকে টাপুস করে পড়ে নাই এর বীজ মুলত ইউরোপেই বপন ছিলো শুধু অপেক্ষায় অঙ্কুরের!

ফ্যাসিবাদ
Fascism is a lie Mouthed by Gangsters. Sir Ernest Hemingway

গত কয়েকবছর ফ্যাসিবাদ শব্দটি বাংলাদেশে খুব আলোচিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্লগ, ফেসবুক, চায়ের টেবিল থেকে গোলটেবিল সব টেবিলেই শীর্ষে। ফ্যাসিবাদ শব্দটি যাদের কাছে উচ্চারিত হয়েছে আগ্রহ ও খোশগল্পে মোটামুটি এ ধারণা আসতে পেরেছি মেজরিটি’র কাছেই অত্যাচারি শাসক মাত্রই ফ্যাসিষ্ট। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ফ্যাসিজমের কোন পরিষ্কার সংজ্ঞা নেই যেভাবে কার্ল মার্ক্স কমিউনিজমের সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন। পূর্বে ফ্যাসিজমের সরলীকরণ ছিল বিরোধী দমন ও নীপিড়নের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের উপায়। বলে রাখা প্রয়োজন এখানে মুল বিষয় যদিও ফ্যাসিবাদ কিন্তু তার আগে আমাদের পুঁজিবাদ ও প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের প্রেক্ষাপটসম্পর্কে কিছু ধারণা রাখা প্রয়োজন।

পুঁজিবাদ বা ধনতন্ত্র

The Only Problem with Capitalism is the capitalists. Herbert Hoover

পুজিবাদ (Capitalisim) বা ধনতন্ত্র হল এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে বাজার অর্থনীতিতে মুনাফা তৈরির লক্ষ্যে বাণিজ্য, কলকারখানা, বাজার সহ উৎপাদনের সকল যন্ত্র কতিপয় ব্যক্তির হাতে থাকে এবং এই পুজিবাদকে কেন্দ্র করে যে সমাজ কাঠামো গড়ে উঠে তাকে পুঁজিবাদী সমাজ বলে। মূলত পুঁজিবাদী সমাজে উৎপাদনের মূল উদ্দেশ্য হল মুনাফা।

অর্থনীতির একটি সাধারণ সূত্র হচ্ছে পুজি বিনিয়োগ এর মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা, সেই মুনাফার একটি অংশ যুক্ত হয় মূল পুজির সাথে অর্থাৎ বিনিয়োগের পরিমান বাড়তে থাকে আর বিনিয়োগ বাড়লে মুনাফা আরও বেড়ে যায়। এভাবেই মুনাফা ক্রমাগত বাড়তে থাকে ফলাফল দাঁড়ায় সমাজের একটি অংশ ফুলে ফেঁপে ধনী হয়ে যায় আর বড় অংশটি ক্রমেই দরিদ্র হতে থাকে। দারিদ্রে’র যাতাকলে পিষ্ট হয়ে একসময় অস্তিত্বের সংকটে ভোগে।

দরিদ্র জনগুষ্ঠির অর্থনৈতিক অবস্থা এতোটা খারাপ হয় যে এরা বাজার থেকে খাদ্য, বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদার উপকরন কিনতে হিমশিম খেতে থাকে। ফলে বাজার বোঝাই হয়ে যায় অবিক্রিত পণ্যে। পণ্য যথাযথ বিক্রয় না হলে কলকারখানা গুলোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় শ্রমিক ছাটাই চাকুরি আর মালিকদের একাংশ হয় দেউলিয়া। পুঁজিবাদী ভাষায় এই সঙ্কটকে বলে অর্থনৈতিক মন্দা। এরকম সিচুয়েশনে শ্রমিক অসন্তোষ ব্যাপক আকার ধারন করে। হতাশাগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিকল্পনা আঁকে পুজিপতিদের হাত থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে শ্রমিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’র। শ্রমিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’র এই পরিকল্পনা’র বৈজ্ঞানিক নাম – কম্যুনিজম।

অথচ পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বুর্জোয়াদের কাছে কম্যুনিজম মানেই বীষ তারা সেটা হতে দিতে পারেনা। বিপরীতে শ্রমিকদের শান্ত করার জন্য নানান টেকনিক খুঁজে বের করা ব্যতীত কোন পথ থাকে না। পুজিপতি বুর্জুয়ারা উৎপাদনযন্ত্রের উপর নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য শ্রমিকদের বিভক্ত করার জন্যে শ্রমিকনেতাদের হত্যা ছাড়াও আন্দোলন দমন করার জন্যে পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এই দমন পীড়ন নীতি চালানোর জন্য বুর্জুয়া গণতান্ত্রিক দেশে পুজিপতিরা এই অত্যাচারী নিপীড়ক গুষ্ঠিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসায়। পুজিবাদের এই সর্বোচ্চ রূপটি হচ্ছে ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিবাদ।

যুদ্ধ এবং উপনিবেশবাদ হচ্ছে পুজিবাদের ফল আর ফ্যাসিবাদ হচ্ছে বুর্জোয়া পুজিবাদীদের উৎপাদনযন্ত্রের উপর ক্ষমতা ধরে রাখা একটি টেকনিক। যুদ্ধ করে অপুজিবাদি স্বল্পউন্নত, অনুন্নত দেশ গুলো দখল করে সেখানকার বাজার হাত করা। উদাহরণস্বরূপ ভারতবর্ষে ব্রিটিশরা যেভাবে উপনিবেশে পরিনত করেছিল। বাজার দখল করেছিল এবং নিজেদের পণ্যে উপমহাদেশের বাজার ভর্তি করে ব্রিটিশ শ্রমিকশ্রেণীকে শান্ত রেখে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের হাত থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।

১৯শতকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পুঁজিবাদী দেশ ছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্স। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশগুলো ছিল তাদের কলোনি। তৎকালীন সময়ে ইতালি এবং জার্মানি নতুন পুঁজিবাদী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং তাদের অর্থনৈতিক সম্প্রসারনবাদ বিপত্তি বাধায়; পুজিবাদের বৈশিষ্ট্য অনুসারে দেশদুটিতে কয়েকবছর পরপরই শুরু হয় অর্থনৈতিক মন্দার; ফলশ্রুতিতে উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই, মালিকদের একাংশ দেউলিয়া ইত্যাদি কারণে শ্রমিক বিপ্লবের আশংকা দানা বাধতে থাকে। এ অবস্থায় জার্মানি ও ইতালির প্রয়োজন হয়ে অপুজিবাদি উপনিবেশ কিন্তু বেশিরভাগ ছিলো ব্রিটিশ ও ফরাসি দখলে; তাই উপনিবেশ বললেই পাওয়ার কোন উপায় নেই কাজেই দখলদারদের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় যুদ্ধের; যার ফলাফল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

No Glory: The Real History of the First World War.

উনিশ শতকে শিল্প বিপ্লব এর ফলে পুঁজিবাদী জায়ান্ট রাষ্ট্রগুলো উপনিবেশ স্থাপনের প্রতিযোগিতা ও আধিপত্য বিস্তার ছিলো মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ! যার উদ্দেশ্য ছিলো সহজে কাচামাল সংগ্রহ করা, পণ্য তৈরি করা ও বিক্রি’র বাজার তৈরি করা ইত্যাদি। এসবগুলো হচ্ছে চাহিদাগত কারণ সাথে অজুহাতও ছিলো।

১৯১৪ সালের ২৮ জুন, বসনিয়া’র রাজধানী সায়ারেভা শহরে তৎকালীন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্ডিনান্ড স্বস্ত্রিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ধারণা করা হয় সার্বিয়ান আতাতায়ির এর গুলিতে তিনি মারা যান। অস্ট্রিয়া এই হত্যাকান্ডের জন্যে সার্বিয়াকে দোষারোপ করে এবং তদন্ত কমিটি গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি, রিপোর্ট পেশ এর সময় বেঁধে দেওয়া ও কিভাবে বিচার হবে এ বিষয়ে কিছু শর্ত পেশ করে। কিন্তু সার্বিয়া সকল শর্ত অস্বীকার করলে অস্ট্রো-হাংগেরীয়ান সাম্রাজ্য প্রতিশোধের নিমিত্তে ২৮জুন সার্বিয়া’র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে।

সার্বিয়া’র পক্ষে ছিলো রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, ইতালি, রুমানিয়া ও আমেরিকা এই পক্ষকে বলা হতো মিত্রপক্ষ। অপরদিকে অস্ট্রিয়া’র পক্ষকে বলা হতো কেন্দ্রীয়শক্তি ওসমানীয় সাম্রাজ্য, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, জার্মানি ও বুলগেরিয়া সমন্বয়ে।

চাহিদাগত ও অজুহাত অপরদিকে আছে কিছু রাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সুপ্ত কারণ। জার্মানীর অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি তখন খুবই ভালো অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও উচ্চাকাঙ্খী সম্রাট কাইজার দ্বিতীয় উইলহেইমের মনে ইউরোপের বাইরেও সাম্রাজ্য স্থাপনের মনোবাসনা; এই বাসনা মূলত পুজিবাদের ফলেই। অপরদিকে তৎকালীন সময়ের অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে একক আধিপত্য করে রাখা প্রচন্ড শক্তিশালী নৌ-শক্তির অধিকারী এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এর কলোনিগুলোর সাহায্যে তৎকালীন বিশ্বে ব্রিটেন ছিল একক পরাশক্তি।

কিন্তু ১৮৭১ সালে রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেওয়া জার্মানদের সামরিক শক্তি, অর্থনীতি ও শিল্প কলকারখানা বৃদ্ধির হার ঘৌড়া’র মত দ্রুতগতি এগোনো জার্মানদের দেখে ব্রিটেন ভীত কারণ পুজিবাদের সুত্রে জার্মানদের তখন বাজার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়াবে! এছাড়াও ফ্রান্স ১৮৭৮ এর যুদ্ধে জার্মানীর নিকট পরাজিত হয়ে জাতিগত ভাবেই তারা জার্মান বিরোধী। স্বভাবতই জার্মানী তাদের মাথা ব্যাথা’র কারণ ফলাফল যেভাবেই হোক জার্মানীদের রুখে দিতে হবে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মুল চাওয়া ছিলো জার্মানদের রুখে দেওয়া।

রাশিয়ার জার যুদ্ধে অশগ্রহন করেন তিনটি কারণের মুখোমুখি হয়ে (এক) যেহেতু অস্ট্রিয়ার সুত্র ধরে সার্বিয়ায় জার্মান উপস্থিতি সেটা রাশিয়া’র নিরাপত্তার জন্য নিশ্চিত হুমকির কারণ (দুই) রাশিয়া নিজের গৃহে চলমান বলশেভিক পার্টি’র ডেলিগেট সভায় লেনিন এর এপ্রিল রিপোর্ট ফলে রাশিয়া তৃতিয় বিপ্লবের মুখে থাকায় জার নিকোলাস তখন এই যুদ্ধ’কে হাতিয়ার করেন কমিউনিষ্টদের দৃষ্টি ফেরানোর জন্যে সেই সাথে ক্ষয়িষ্ণু অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয়ান সাম্রাজ্যের এলাকায় নিজ প্রভাব বিস্তার ও রাশিয়ার মসনদ কে দিরতরে নিজ আয়ত্তবে রাখার অভিলাস। (তিন) রাশিয়ার জার ধর্মীয় ভাবে খ্রিষ্টান অর্থোডক্স ও স্লাভিক জাতি হওয়ার দরুন জাতীগত নৈকট্যের কারনে এবং রাশিয়ান নেতৃত্ব নিশ্চিত করা ছাড়াও জাতীয় প্রাইড সমুন্নত রাখার তাগিদেই সার্বিয়ানদের পক্ষে দাঁড়ায়।

অতীতে প্রচন্ড শক্তিশালী অটোমান সাম্রাজ্য সেইসময় নিজেকে হারিয়ে খুজছে; পতনের মুখে থাকায় শেষবারের মতো জার্মানীর সাহায্যে হারানো ক্ষমতার সোনালী ইতিহাস পুনরুদ্ধা’রের অভ্রিপ্রায়ে যুদ্ধে অংশগ্রহন; অস্ট্রো-হাংগেরিয়ান্দের শুধু যুবরাজ হত্যা’র প্রতিশোধেই নয় অটোম্যান্দের ন্যায় তারাও নিজেদের হারিয়ে খুজে ফেরে।

১৯১৪ সালে যুদ্ধ শুরু হলেও ইটালী যুদ্ধে যোগদান করে ১৯১৫ সালে মিত্র বাহীনি’র সাথে; উল্লেখ্য যে ১৮৮২ সাল থেকে জার্মানী-অস্ট্রিয়া এবং ইটালীর মাঝে সামরিক জোট গঠনের চুক্তি বলবৎ ছিল, ১৯০২ এ সেটা নবায়ন হয়। কিন্তু ১৯১৫ লন্ডনে গোপন এক চুক্তি (প্যারিস শান্তি চুক্তি) অনুযায়ী কিছু পুরষ্কার এর আশায় ইটালি মিত্রবাহিনী’র সাথে যোগদান করে।

গোপন চুক্তি অনুযায়ী ইটালিকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল যে ইটালিকে ট্রেনটিনো, দক্ষিণ টাইরল, ইস্ট্রিয়া, ট্রায়েস্ট, দালমাতিয়ার অংশবিশেষ, আদালিয়া, ঈজিয়ান দ্বীপের কিছু অংশ এবং আলবেনিয়ায় কলোনি দেয়া হবে এছাড়াও ভেবেছিল ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকায় কিছু এলাকা ও আফ্রিকার জার্মানির দখলকৃত ভূমি থেকে কিছু পাবে। বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি চারটি দ্বীপ ছাড়া ইটালির কপয়ালে কিচ্ছু জোটেনি। প্যারিস শান্তি সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ ইটালির সাথে প্রতারণা করেছিলো এবং ইটালির নেতৃবৃন্দের অযোগ্যতার দরুণ ইটালি বিন্দুমাত্র সুবিধা লাভ করতে পারেনি এথেকে জনসাধারণের মধ্যে ধারণা বদ্ধমূল হয়েছিল যুদ্ধে মিত্রপক্ষের সাথে ইটালী’র জয় হলেও প্যারিস শান্তিচুক্তি’র ফলে ইতালি পরাজিত হয়েছে।

যুদ্ধের পর ইটালি অর্থনৈতিকভানে আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়ে কারণ নতুন পুঁজিবাদী দেশ অর্থনৈতিক সম্প্রসারনবাদ এর ফলে বারবার অর্থনৈতিক মন্দার দরুন ইতালির যখন প্রয়োজন অপুজিবাদি উপনিবেশের এই প্রয়োজনেই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি’র যুদ্ধে যোগদান করেও যখন বাজার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয় নাই। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ ক্রামগত সরকারকে দোষ দিতে থাকে অভ্যন্তরীণ দুর্দশা সৃষ্টি হয়; এদিকে আর্থিক দুর্দশা এতোটাই খারাপের দিকে এগুতে থাকে খাদ্যের চরম মূল্যবৃদ্ধি হয়, বেকারত্ব বেড়ে যায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রচুর ঋণ ও পরিশোধ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেওয়া, পার্লামেন্টেও নির্দিষ্ট দল নিয়ে বিপর্যয়।

সকল বিষয়ে ইটালির অবস্থা যখন নাজুক ১৯১৯ সালে বেনিতো মুসোলিনি গঠন করেন ইটালিয়ান ফ্যাসিস্ট পার্টি। ১৯২১ সালে নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট পার্টি ৩৫ টা আসন পায়। নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও এখানে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নয়টি দল পার্লামেন্টের সিট পায়, এরমধ্যে ছিল ফ্যাসিস্ট দল, লিবারেল, জাতীয়তাবাদী, সোশ্যালিস্ট, কম্যুনিস্ট, ক্যাথলিক। সবাইকে নিয়ে পার্লামেন্ট গঠন করা হলেও প্রধান নেতা কে হবেন এ নিয়ে সমস্যা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত জিওভান্নি জিওলিত্তি হন প্রধান মন্ত্রি। এরপরও ইটালী’র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা কমেনি বরং আরো বেড়ে যায়। পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা ও পরবর্তিতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে ইটালির জনগণের মনে যে নৈরাশ্যের সৃষ্টি করেছিল তার ফলেই মূলত ফ্যাসিজমের জন্ম।

১৯১৮, ১৯২৩-২৪, ১৯২৯ সালগুলোতে বার বার শ্রমিক বিপ্লব করেও রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় ও ক্রমাগত ‘ব্যবসা সঙ্কটের’ ফলে ইতালির সাধারণ জনগন, শ্রমিক, কৃষক শ্রেণী তখন গভীর হতাশায় নিমজ্জিত। ক্রমবর্ধমান শ্রমিক বিপ্লব এবং অন্যদিকে শ্রমিকদের উপর কম্যুনিস্ট রাশিয়ার প্রভাব যখন বাড়তে থাকে ইতালিয়ান বুর্জুয়া (শিল্প মালিক) দের তখন চিন্তার কারন হয়ে দাড়ায়। ফলে তারা ফেসিষ্ট পার্টিকে ক্ষমতায় বসায়। এই ফেসিষ্ট পার্টি মুলত সমাজের পেটিবুর্জুয়া (এরা মূলত মাঝারী-বড় মাপের কৃষক, মাঝারো-ছোট ব্যবসায়ী) শ্রেণীর দল। এই দুলটি খুব সুন্দর ভাবে সামাজিক ব্যালেন্স তৈরি করতে পারে। সাধারণ জনগনের হতাশা ও চেতনাকে কাজে লাগিয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদ, মৌলবাদ কে প্রতিষ্টিত করে এবং পাতি বুর্জুয়া শ্রেণীকে শ্রমিক বিপ্লব হতে পৃথক করে ফেলে। শ্রমিক শ্রেণীর উপর নিপীড়ন চালানো এবং উৎপাদন যন্ত্রে বুর্জুয়াদের অধিকার টিকিয়ে রাখা সহ শায়েস্তা করা হয় কম্যুনিস্ট পার্টিকে।

ফ্যাসিবাদ এর জন্ম

Book Cover: The Anatomy of Fasicism by Robest Paxton

যদি সহজেই বলা যায় ফ্যাসিবাদ হচ্ছে একটী সামাজিক-রাজনৈতিক ফেনোমেনন! তাহলে কি কেউ মাইন্ড করবেন?

১৯১৯ সালের ২৩ মার্চ ইতালির মিলান শহরে এক সহিংস কম্যুনিস্ট হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে আবির্ভাব ঘটে ফেসিজমের। তখন থেকেই এটি ইউরোপের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বেশ কয়েকটিতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। ফ্যাসিবাদের পক্ষে কলম ধরে দার্শনিক শোপেনহাওয়ার খুঁজছিলেন একজন ‘জিনিয়াস’ আর নীৎসে খুঁজছিলেন একজন ‘সুপারম্যান’ যদিও ফ্যাসিবাদ দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতা সমগ্র প্রগতিশীল ও মুক্তিকামী পৃথিবীকে কাঁদাতে মোটেও বেশি সময় নেয়নি।
দার্শনিক শোপেনহাওয়ার আর নীৎসে সমন্বয়ে জন্ম নেয় ফ্যাসিবাদ, দানব মুসোলিনি’র হাত ধরেই।

বেনিটো অ্যামিলকেয়ার আন্দ্রেয়া মুসোলিনি
(Benito Amilcare Andrea Mussolini)

Caricature of Benito Mussolini

সাল ১৮৮৩, ২৯ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন এবং নিহত হন ১৯৪৫ সালের ২৮ এপ্রিল। তিনি ইতালির ফোরলি শহরের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন কামার এবং মা একজন স্কুল শিক্ষিকা। ছোট বেলা থেকেই চঞ্চল ও ডানপিটে স্বভাবের ছিলেন। তার কিছু প্রমাণ পাওয়া যায় স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনায়; এইকারণে বিভিন্ন স্কুল থেকে একাধিকবার বহিষ্কার হয়েছিলেন। ১৯০১ সালে টিচিং সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

১৯০২ সালে মাত্র উনিশ বছর বয়সে মুসোলিনি সুইজারল্যান্ডে যান সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য। মাঠপর্যায়ে তার আসাধারণ কর্মদক্ষতার জন্য সোশ্যালিস্ট পর্টির নেতাকর্মীদের কাছে খু্বই জনপ্রিয় এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন মুসোলিনি। সুইজারল্যান্ডের জনগণের মাঝে তার রাজনৈতিক মতাদর্শের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সুইস কর্তৃপক্ষ চিন্তিত হয়ে পড়ে। এবং মুসোলিনিকে দেশ থেকে বহিস্কারের নির্দেশ দেয়। আর সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করে তার মতাদর্শ প্রচার না হওয়ায় দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। ১৯০৪ সালে ইটালি ফিরে এসে মূলত শুরু করলেন তার লেখালেখির জীবন। প্রথমে স্থানীয় এক পত্রিকায় সোশ্যালিস্ট পার্টির মতাদর্শ তুলে ধরে নানা প্রবন্ধ লিখতে থাকেন। ক্রমাগত লিখে চললেন একের পর এক প্রবন্ধ, সম্পাদকীয় মন্তব্য। ১৯১২ সালে ইতালির সোশ্যালিস্ট পত্রিকা দৈনিক ‘অবন্তি’র সম্পাদক নির্বাচিত হলেন তিনি।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় তিনি এই সাংবাদিকতায় পেশায় যুক্ত ছিলেন; প্রথমে তিনি যুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইতালির প্রবেশের ব্যাপারে তীব্র নিন্দাও জানিয়েছিলেন; পরবর্তিতে বুঝতে পারেন এই যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ একটি শক্তিশালী অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে; মুসোলিনি যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেন এবং দেশকে মিত্রপক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। যদিও তার পার্টি সোশ্যালিষ্ট’রা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো।

তৎকালীন ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা MI5 মিত্র দেশের পাশাপাশি ইতালি যেন তার লড়াই চালিয়ে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রচারণা চালানোর জন্যই মুসোলিনিকে সপ্তাহে ১০০ পাউন্ড করে দিত। ফলশ্রুতিতে মুসোলিনি মিত্রপক্ষে’র সমর্থনে পত্রিকায় প্রকাশ করতে লাগলেন নানা প্রবন্ধ। সোশ্যালিষ্ট পার্টির নীতি, আদর্শ থেকে সরে গিয়ে মুসোলিনির এ ধরনের একক সিদ্ধান্তের কারণে দল অস্বস্তির মুখে পড়ে। ফলাফল মুসোলিনিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সঙ্গে পত্রিকার চাকরিটিও হারাতে হয়।

এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ১৯১৫সালে তিনি সৈন্যাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং সরাসরি যুদ্ধে যোগদান করেন এবং গুরুতবপুর্ণ ভুমিকা’র কারণে তিনি পদোন্নতিও পান। যুদ্ধ আহত হওয়ার পর সৈনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন। ১৯১৮ মুসোলিনি আকস্মিকভাবেই স্যোস্যালিজম এর উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। একই সালের বেব্রুয়ারি মাসে তিনি প্রথম একনায়কতন্ত্রের উত্থানের কথা বলেছিলেন প্রকাশ্য সভায় এবং এর তিনমাস পর একনায়ক্তন্ত্রের জন্যে নিজেকে যোগ্য পর ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে প্রস্তুত বলে ইংগিত দেন।

পরের বছরই ১৯১৯, ২৩ মার্চ মুসোলিনি তার এই উচ্চাভিলাষ সমর্থনের জন্য অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আমলা, অস্থির বিপ্লবীরা, অবসরপ্রাপ্ত সৈন্য, অসন্তুষ্ট সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অসন্তুষ্ট সোশ্যালিস্ট ও রিপাবলিকান সংগঠনগুলোকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন। সবাইকে একত্র করে বৈঠকে তিনি “সংগ্রামী ঐক্য বা Fascio di Combattimento” গঠন করেন। এইদলগুলো ছিল ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠি। ০৬ জুন পোপালো ডি ইটালিয়া (Popalo d’Italia) নামে নিজের সংবাদপত্রে কাজ শুরু করেন এবং প্রকাশক হন।

মুসোলিনি ফ্যাসিজমের আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করেছেন ইটালিয়ান কবি গ্যাব্রিয়েল ডি এনুয়িনজোর (Gabriel D’ Annunzio) এর রাজনৈতিক আদর্শকে। ফ্যাসিস্ট পার্টির উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয়ভাবে পরিবর্তন আনা এবং এর কর্মকাণ্ড ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের। এরপর ১৯২১ সালে ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের সময় তিনি দলের নাম পরিবর্তন করে “ফ্যাসিস্ট পার্টি” নামকরণ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কিন্তু সাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতা দখল করতে না পেরে এবং বুর্জোয়াদের চাপে চরমপন্থা হাতে নেন। ফ্যাসিষ্ট পার্টি’র যুবক সদস্যদের নিয়ে তৈরি প্যারামিলিটারী বাহিনী, যারা ‘ব্ল্যাক শার্ট’ নামে পরিচিতি। তাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বামপন্থীদের হেনস্থা করা। ১৯২২ সালের ২৭ অক্টোবর ঐতিহাসিক রোম অভিযানের দিন ঘোষণা করার পরপর ইটালির বিভিন্ন জায়গা থেকে ফ্যাসিস্টরা রাজধানীর আশেপাশে জমা হতে শুরু করে। দলের পরিকল্পনা অনুসারে তিন লক্ষ ফ্যাসিস্ট ক্যাডার ঝাঁকে ঝাঁকে এসে দখল করে নিল গোটা মিলান শহর।
বিরাট সম্মেলনে মুসোলিনি ঘোষনা দেন, “হয় সরকারি ক্ষমতা আমাদের হাতে ছেঁড়ে দিতে হবে নয়তো আমরা মার্চ করে রোম বলপূর্বক দখল করব।” যার ফলশ্রুতিতে মার্চ অন রোম আন্দোলনের সূত্রপাত। শুরু হয় সংকটময় অবস্থার; অবরোধ করলো রেললাইন, সরকারি অফিস ও বাড়িগুলো পর্যন্ত চলে এলো তাদের হাতে। গোলন্দাজ বাহিনীর হালকা বন্দুক, জন্তু-জানোয়ার শিকার করার জন্য পুরনো আমলের মরচে-পড়া বন্দুক, বারুদভরা প্রাচীন রাইফেল এ সমস্ত পুরনো অস্ত্র দখল করতে পেরে ফ্যাসিস্টদের উৎসাহ তখন আর বাঁধ মানছে না। মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তার মধ্যেই এসব জীর্ণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেসব ফ্যাসিস্টকর্মীরা ‘রোমা! রোমা!’ নামে চিৎকার করতে করতে এগিয়ে যেতে লাগলো রাজধানী রোম শহরের দিকে। রাজধানীও এবার তারা দখলে আনতে চায়। এভাবে চারদিকে ফ্যাসিস্ট দলের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৯২২ সালের ৩০ অক্টোবরে রাজা ভিক্টর ইমানুয়েল। ১৯২৪ সালের শেষ দিকে পার্লামেন্টের কাছ থেকে মুসোলিনি একচ্ছত্র ক্ষমতা লাভ করেন। এবং পাকাপোক্ত করে ফ্যাসিস্ট দলের ক্ষমতার শীর্ষস্থান।

ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিবাদ

Facism 1922-1945: ‘It’s what fell out of Mussolini’s pockets when they hung him.’ (Image Source Cartoon.

ফেসিজম শব্দের উৎপত্তি ইটালিয়ান শব্দ ‘Fascio’ থেকে । ইংরেজিতে এর আভিধানিক শব্দগুলো হচ্ছে ‘bundle’, ‘sheaf’ ও ল্যাটিন শব্দটি হচ্ছে fasces পরবর্তীতে নানান পরিবর্তন এর মধ্য দিয়েই আজকের Facisism/ ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিবাদ। ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিবাদ কে সহজ কথায় বুঝতে আমাদের ছোটবেলার এই গল্পটি সাহায্য করবে- “এক বৃদ্ধ বাবা মারা যাওয়ার আগেরদিন তার দশ পুত্র কে একসাথে ডেকে আনে এবং সবাইকে একটি করে লাঠি দিয়ে বলা হয় ভাংগার জন্যে। বাবার এমন আচরণে প্রত্যেকেই আশ্চর্য হলেও বৃদ্ধ বাবার আদেশে দশ জনই তাদের হাতের লাঠিগুলো সহজেই ভেংগে ফেলল।

এরপর বৃদ্ধ বাবা আরো দশটি লাঠি একত্রে করে বেধে প্রথমে একজন কে দিয়ে বললেন এবার ভাংগতে; প্রথমজন চেষ্টা করে বলে- এভাবে দশটি লাঠি ভাংগা সম্ভব নয়; তারপর ক্রমান্বয়ে বাকি নয়জন চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছে।

এই গল্পটি’র শিক্ষা হচ্ছে “দশের লাঠি একের বোঝা” ফ্যাসিবাদের মুলসুত্রটি এখানে গাথা। সমীকরটি আমরা লক্ষ্য করলেই কিছুটা পরিষ্কার হবে “একই মতাদর্শের অথচ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সবাইকে একসুত্রে বেঁধে বিরোধীদের দমন করার সঙ্ঘবদ্ধ শক্তি; পরবর্তিকালে শুধু সঙ্ঘবদ্ধ শক্তিই হিসেবেই নয় তারসাথে যোগ হয় আইনি কর্তৃত্ব।”

ফ্যাসিবাদে ভিন্নমতের কোন ঠাঁই নেই। এ জন্য ফ্যাসিবাদে ভিন্নমতকে সহ্য না করে দমন করা হয়। ব্যতিক্রম ভাবে বললে ফ্যাসিবাদ একটি কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা’র কাঠামো কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনকে চূড়ান্ত ভাবে নিয়ন্ত্রণের মতবাদ। সামরিক স্বৈরতন্ত্রের সাথে ফ্যাসিবাদের পার্থক্য হচ্ছে বৈধ্যতার।

সামরিক স্বৈরতন্ত্র গঠন হয় কোন জনসমর্থন ছাড়াই; আমরা সবাই জানি একটি দেশে নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী’র মানুষ থাকে সংখ্যায় সবসময় বেশি এই দুটি শ্রেণী একত্রিত হলে যেকোন আন্দোলনের চুড়ান্ত ফলাফল আনতে সক্ষম এই নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের বৈধতার মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। এরপর চলে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় দমন-পীড়ণ-নিপীড়ণ-শোষণ; সর্বসাধারণের জীবন অতিষ্ঠ হলেও জনগণ ঠিক বুঝে উঠতে পারে না কোন কী উপায়ে মুক্তি অর্জন সম্ভব! জনগণকে সম্পূর্ণভাবে থাকে অন্ধকারে রাখাই হচ্ছে ফ্যাসিবাদিদের একটি পলিসি মাত্র।

আসলে ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিবাদ হচ্ছে একটি সংজ্ঞাহীন চরমপন্থী, জাতীয়তাবাদী, কর্তৃত্বপরায়ন রাজনৈতিক মতবাদ বা আদর্শ এর পরিষ্কার কোন সংজ্ঞা নাই যেভাবে কাল মার্ক্স কমিউনিজমের সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন। ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা নিহিত এই মতবাদের অন্তর্ভুক্ত কোন দলের কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য’র ভেতর; ঐ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের উপর বিশ্লেষনের মধ্য থেকেই ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা বেরিয়ে আসে।

বিশেষ কোন নির্দিষ্ট দর্শন থেকে এই মতবাদকে পরিস্ফুট করা সম্ভব নয় বলে ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি। মজার বিষয় হচ্ছে আমরা আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস পড়ে আপ্লূত হই কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে ইউরোপীয় এনলান্টমেন্টের ইতিহাস মানেই ফ্যাসিবাদের ইতিহাস। ফ্যাসিবাদ ইউরোপে আসমান থেকে টাপুস করে পড়ে নাই এর বীজ মুলত ইউরোপেই বপন ছিলো শুধু অপেক্ষায় অঙ্কুর হওয়ার।

তথ্যসুত্র
১। ইকোনমিক্স ও ফিলোসফিক্স মেন্যুস্ক্রিপ্ট, কার্ল মার্ক্স।
২। ভ্যালু, প্রাইস এন্ড প্রোফিট, কার্ল মার্ক্স।
৩। দ্যা ওয়ার দ্যাট এন্ডেড পিসঃ দ্যা রোড টু ১৯১৪, মার্গারেট ম্যাকমিলান।
৪। ফল অফ জায়ান্টস, কেন ফলেট।
৫। মুসোলিনি ইন দ্যা ফার্ষ্ট ওয়ার্ল্ড ওয়্যারঃ (দ্যা জার্নালিষ্ট, দ্যা সোলজার, দ্যা ফ্যাসিষ্ট), পল ও’ব্রায়েন।
৬। ক্যাপিটালিজন এন্ড ফ্রিডম, মিল্টন ফ্রায়েডম্যান।
৭। ক্যাপিটালিজমঃ দ্যা আন নোন আইডল, আয়ান রান্ড।
৮। ক্যাপিটালিজম, সোস্যালিজন এন্ড “দ্যা মিডল ওয়ে” এ ট্যাক্সোনমি, রর্বাট এল ব্রাডলি জুনিয়র এবং রজার ডনওয়ে।
৯। দ্যা অনাটমি অফ ফ্যাসিজম। রবার্ট প্যাক্সটোন।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ