বিমানের উপর বজ্রপাত হলে কি ঘটে?

বছরে প্রায় ৩ বিলিয়নের মতো বাজ পরে পৃথিবীতে এবং সেকারনে পৃথিবীর না না প্রান্তের মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিমানে চরতে এমনিতেই অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে যান। তা ছাড়া ১৯৬৭ সাল আগ পর্যন্ত এই আকাশ পথের সফর শুধু চিন্তাই নয় ভয়ের ও কারন ছিল।

কেননা সেসময় কমার্শিয়াল প্লেনের ফুয়েল ট্যাংক যথাযথ গুরুত্ব এবং যত্ন নিয়ে তৈরি করা হতনা। সে কারনে সেগুলো মাটি থেকে কয়েক হাজার ফুট উচুতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ও ছিল না। ১৯৬৭ সালে অসম্ভব তীক্ষ্ণ আওয়াজে বজ্রপাত হতে থাকে এবং এমেরিকার একটি যাত্রীবাহী বিমান সেই বজ্রপাতে আকাশেই ধ্বংস হয়ে যায়।

আসলে বজ্রপাতের কারনে ফুয়েল ট্যাংকে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়। এটি সে সময়কার ঘটনা যখন বাজ পরার কারনে বিমানে দুর্ঘটনা ঘটতো। বেশিরভাগ সময়ই বিমান গুলো বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতো যার কারনে মৃত্যু হতো অনেক যাত্রীর। কিন্তু ১৯৬৭ সালের ঘটনা সারা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই বদল আসে বিমানের ডিজাইনে।

বেশি নজর দেয়া হয় ফুয়েল ট্যাংক এবং ফিউজলেজে। ফিউজলেজ হল একটি বিমানের ক্রু মেম্বার এবং যাত্রিরা বসেন। এই দুটি অংশের ডিজাইনের উপর বিশেষ গ্রুত্ব সহকারে কাজ করা হয়। ফুয়েল ট্যাংক যথা সম্ভব ব্লাস্ট প্রুফ বা বিস্ফোরকরোধি বানানো হয়। এবং ফিউজলেস কে কার্বন ম্যাটারিয়াল কম্পোজিট দিয়ে বানানো হয়। এই উপাদানটি যে কোন প্রকার ইলেক্ট্রিক ম্যাগনেটিক এনার্জিকে ফিউজলেসে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

এই ফিউজলেস যাকে আমরা বিমানের বডি বলে থাকি সেটি আসলে একটি ফাপা টিউব। যা একটি বিমানের সমস্ত অংশকে এক সাথে ধরে রাখে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। আর যেহুতু এটির ভিতরে বিদ্যুৎ প্রবেশ করতে পারেনা তাই বাহিরের দুর্যোগ থেকেও এটি বিমানকে রক্ষা করে।

এখনকার যেকোন কমার্শিয়াল বিমানকে থান্ডার প্রুফ বানানো হয় তাই এ ধরনের বজ্রপাত বিমান বা তার যাত্রিদের কোন ক্ষতি করতে পারেনা। এখনকার সময়ে যদি কোণ বিমানের উপর বাজ পরে তাবে তাকে সেফটি ল্যান্ডিং করানো হয় এবং ইন্সপেকশন করানো হয় যে কোন বিচ্যুতি ঘটেছে কিনা।

যখন বিমানের উপর বাজ পরে তখন আপেক্ষিক ভাবে প্লেনের সার্ফেসেজ বা তীক্ষ্ণ প্রান্ত গুলই নিশানা হয়ে থাকে। যেমন বিমানের পাখার শেষ প্রান্ত বা উইং টিপ অথবা বিমানের শেষ প্রান্ত অর্থাৎ টেলে। বিমানের ফিউজলেজ একটি প্যারালাল এইজের মতো কাজ করে। যার কারনে বিদ্যুৎ এর উপর দিয়ে পার হবার সময় সার্ফেজ গুলোকেই নিশানা করে। যার কারনে বিমানের অভ্যন্তরীণ অংশ হাই ভোল্টেজের হাত থেকে নিরাপদ থাকে।

জেনে রাখা ভাল যে, যখন একটি বাজ পরে তখন এর ভীতর ১৫ বিলিয়নের বেশি বিদ্যুৎ থাকতে পারে!! এ কারনে নিউইয়র্ক এয়ারলাইন্সে বোয়িং 787 এবং এয়ারবাস A350 বিমানগুলো কার্বন ম্যাটারিয়াল কম্পজিট দিয়ে বানানো হচ্ছে।

আপনাদের মনে এখন নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে যে, বিমান গুলো যদি যদি থান্ডার প্রুফ হয়ে থাকে তবে আকাশ মেঘলা হলে, আবহাওয়া খারাপ থাকলে বিমান তার পথ পরিবর্তন করে কেন? বা ফ্লাইট বা ডিলে হয় কেন?

এর উত্তর হচ্ছে এয়ার টার্বুলেন্স। বিমানের ডিজাইন করা হয় এরো ডাইনামিক যেন এটি বাতাসের শক্তিকে যথাযথ ব্যবহার করতে পারে এবং হাওয়া কেটে কোণ ঝামেলা ছাড়াই উড়তে পারে। কিন্তু বাতাস যখন একদিকে বহেনা বা বাতাসের গতি থাকে এলোমেলো এবং বারেবারে এতে বদল আসে অর্থাৎ হাওয়া এলোমেলো ভাবে প্রবাহিত হয় তখন টার্বুলেন্স বেড়ে যায়। যার কারনে বায়ু শক্তি বিমানকে যেকোন দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। যার কারনে পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন এবং এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে।

যখন ঘন্টায় কয়েকশ মাইল বেগে বাতাস বয় এবং বারবার দিক পরিবর্তন করতে থাকে তখন খারাপ আবহাওয়ায় টেক অফ বা ল্যান্ডিঙ্গে সমস্যা দেখা দেয়। যার কারনে বিমান নিয়ন্ত্রণ রাখা পাইলটের জন্য সম্ভব হয়না তাই তারা রুট চেঞ্জ করতে বাধ্য হয়। যার কারনে ফ্লাইট ডিলে হয় বা কখনো কখনো তা বাতিল হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *