বিশ্বের রহস্যময় ৫টি পরিত্যক্ত স্থান

পরিত্যক্ত স্থান বলতেই আমাদের মাঝে কেমন যেন একটা গা ছমছমে ভয় চলে আসে। কিন্তু এই পরিত্যক্ত প্রতিটি স্থানেরই একটি নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে। তার মধ্যে কিছু স্থান ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে, আবার কিছু স্থান আপনার মধ্যে সমীহ জাগাবে। ভয়াবহ কিন্তু আপনাকে আকৃষ্ট করবে এমন কয়েকটি বিশ্বের রহস্যময় ৫টি পরিত্যক্ত স্থান নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

১) গানকানজিমা, জাপান

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

জাপানি ভাষার গানকানজিমার অর্থ হচ্ছে যুদ্ধদ্বীপ বা ব্যাটলশিপ দ্বীপ। এর আকৃতি অদ্ভুত, যেন একটি যুদ্ধ জাহাজ/রণতরীর অনুরূপ।

জাপানের শিল্পশহর নাগাসাকি থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরুত্বে অবস্থিত একসময়ের ঘনবসতিপুর্ণ প্রাণচঞ্চল শহর গানাকানজিমা এখন একটি ভুতুড়ে দ্বীপ। বিশ্বের ৫০৫ টি জনমানবহীন দ্বীপের মধ্যে গানাকানজিমা অন্যতম।

এখানে অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে শতশত বাড়ী ও ভবন। কিন্তু কোন মানুষ বসবাস করেন না। ১৮৮৭ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত জাপানের গানাকানজিমা দ্বীপটি ছিল ঘনবসতিপুর্ণ প্রাণ প্রাচুর্যে ভরা একটি কোলাহলমুখর নগরী।

সাগরের তলদেশ থেকে কয়লা সংগ্রহের জন্য গানাকানজিমা ছিল কর্মসংস্থানের উপযুক্ত এলাকা। কর্মানুসন্ধানী মানুষ তাই ধীরে ধীরে এই দ্বীপে গিয়ে ভিড় করেন। জাপান ছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশগুলির শ্রমিকরাও কাজের খোঁজে ছুটে আসতেন গানাকানজিমায়।

এই দ্বীপের মুল অংশে প্রতি হেক্টর এলাকায় ১ হাজার ৩৯১ জন ও দ্বীপের উপ-অঞ্চলে হেক্টর প্রতি ৮৩৫ জন মানুষ বসবাস করতো। দ্বীপ সংলগ্ন সাগরের তলদেশ থেকে প্রচুর কয়লা পাওয়া যেত। এই কয়লা শিল্পের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হতো। এ কারণে দ্বীপে গড়ে উঠে প্রচুর ভারী , মাঝারি ও ছোট ছোট শিল্প কারখানা। মুলত: এ কারণেই গানাকানজিমা হয়ে উঠে জাপানের প্রধান শিল্পশহর।

তবে সেই সুদিন স্থায়ী হয়নি গানাকানজিমাবাসীর। সত্তরের দশকে শিল্পে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে প্রচুর জ্বালানি তেলের মজুদ পাওয়া যায়। আরব দেশগুলি উত্তোলন করে সস্তায় জ্বালানি তেল রপ্তানি শুরু করে। ফলে শিল্পে কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়তে থাকে।

জ্বালানি তেলের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনও শুরু হয় এই সময়ে। ট্রেন ও জাহাজ চলাচলে কয়লার ব্যবহার কমতে থাকে। এভাবেই শিল্পনগরী গানকানজিমা ছেড়ে শিল্পোদ্যোক্তারা অন্য শহরে চলে যেতে শুরু করে। কয়লার চাহিদা কমতে থাকায় কারখানাগুলিও একে একে বন্ধ হয়ে যায়। কর্মহীন শ্রমিকরাও ধীরে ধীরে গানাকানজিমা ছেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ে গানাকানজিমা। একসময়ের অতি ব্যস্ততম শহর পরিণত হয় ভুতুড়ে শহরে।

২) রিউজং হোটেল, পিয়ংইয়াং

জায়গাটিকে বলা হয় উত্তর কোরিয়ার পাগলামোর অন্যতম নিদর্শন! ১৯৯২ সালে এই হোটেল নির্মানের কাজ শুরু হয়। কিন্তু পরের বছরই দেশটিতে ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার কারণে হোটেলটির নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এর প্রায় ১৬ বছর পর রিউজং-এর পুনঃনির্মাণ শুরু হয়। প্রায় ১৫০মিলিয়ন ডলার খরচ করে এর বাইরের অংশটিকে নীল কাঁচ দিয়ে আচ্ছাদিত করে দৃষ্টিনন্দিত করা হয়। কিন্তু হোটেলটির ভেতরের অনেক জায়গা এখনো পরিত্যক্ত ও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রেখে দেয়া হয়েছে।

৩) প্রিপায়াত, ইউক্রেন

উত্তর ইউক্রেনে প্রিপায়াত একটি ভৌতিক শহর। ১৯৮৬ সালের ২৭ এপ্রিল চেরনোবিল দূর্যোগের পর সরকার এই এলাকাটিকে অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেয়। কোন ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জনসাধারণের আতঙ্ক দূর করার জন্য মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় যে তারা যথাসম্ভব দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসতে পারবে। আজ শহরটি ভ্রমণের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বলে মনে করা হয় এবং কিছু লোক এর আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়।

৪) পেনসিলভেনিয়ায় কারাগার

একসময় বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত কারাগার যেখানে কুখ্যাত অপরাধী আল ক্যাপোনকে একটি বিলাসবহুল সেলে রেখেছিল, সেই পূর্বাঞ্চলীয় কারাগারটিই এখন ধ্বংসস্তূপের মতো দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে জরাজীর্ণ ভবন ডানা মেলে আছে এবং গার্ড টাওয়ার পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

তা সত্ত্বেও, এখানে পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে। কারাগারটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সাইটটিতে বর্তমানে আমেরিকান কারাগার সিস্টেম এবং শিল্প ইনস্টলেশন সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে এবং টিকিটগুলো অনলাইনেই কেনা যায়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে হ্যালোইন পর্যন্ত কারাগারটি মনোরম ভীতিজনক ভুতুড়ে ঘরে রূপান্তরিত হয়ে থাকে।

৫) উইলার্ড অ্যাসাইলাম, নিউ ইয়র্ক

মানসিক ভারসম্যহীনদের সেবা প্রদানের জন্য ১৮৬৯ সালে এ আশ্রয়স্থলটি তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে একসঙ্গে চার হাজার মানুষ থাকার ব্যবস্থা ছিল। এর ব্যপ্তিকালে প্রায় ৫০ হাজার জন রোগী এতে ভর্তি হয়েছিলেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৫ সালে গারদটির সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হলে এটি বর্জিত হয়ে পড়ে। তখন থেকে ভয়ানক এক জায়গায় রূপ নেয় হাসপাতালটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *