মৌমাছি সম্পর্কে কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

প্রিয় পাঠক, মৌমাছির ঝাঁক দেখলে তো আমরা ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু মৌমাছি সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানিনা। অথচ আমাদের সকলেরই এই তথ্য সমূহ জানা উচিত।

মৌমাছি সবথেকে পরিশ্রম করা প্রাণীদের তালিকায় রয়েছে ৷ আমাদের জীবনে মৌমাছি যে কতটা প্রয়োজন তা আমরা কেউ জানিনা। আজকের আলোচনায় আমরা মৌমাছি সম্পর্কে কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য জানবো। যা জেনে আপনারা অবাক হয়ে যাবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

পুরো বিশ্বে মৌমাছির ২০ হাজারের ও বেশি প্রজাতি রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র চার প্রজাতির মৌমাছি মধু তৈরি করতে পারে ৷ এদের একটি চাকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার স্ত্রী মৌমাছি ছেলে মৌমাছি আর একটি রানী মৌমাছি থাকে৷ এদের চাক মোম দিয়ে তৈরি করা হয়। যা এদের পেটের গ্রন্থি থেকে বের হয়। মৌমাছিই পৃথিবীতে একমাত্র প্রাণী যাদের তৈরি খাবার মানুষ খেয়ে থাকে ৷

শুধুমাত্র স্ত্রী মৌমাছি মধু তৈরি করতে পারে আর হুল ফোটাতে পারে। আর ছেলে মৌমাছি শুধু রানীর সাথে থাকার আর বাচ্চা জন্মদানের সাহায্য করার জন্যই তাদের সাথে চাকে বসবাস করে ৷ মৌমাছি প্রতি ঘন্টায় ২৪ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে। আর এক সেকেন্ডে ২০০ বার তাদের পাখা নাড়াতে পারে। মানে এক মিনিটে ১২ হাজার বার !

মৌমাছির ও কুকুরের মত বোমা খুঁজে বের করার শক্তি রয়েছে। মৌমাছির ১৭০ টি ঘ্রাণ নেওয়া রিসিপ্টর রয়েছে। যেখানে মশার রয়েছে মাত্র ৭৯ টি। মৌমাছি ফুল খুঁজতে তাদের চাক থেকে ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যেতে পারে। এরা একেবারে ৫০ থেকে ১০০ টি ফুলের রস তাদের ভেতরে নিতে পারে।

এদের এন্টেনার মত একটি সুচ রয়েছে যা দিয়ে এরা ফুলের রস চুষে নেয় ৷ যার কিছু অংশ খাবার হয়ে এদের ভেতরে চলে যায় আর বাকি অংশ মধু হিসেবে বাহিরে বের করে দেয়। ১ কেজি মধু বানাতে মৌমাছির আনুমানিক ৪০ লাখ ফুলের রস খেতে হয়। আর ৯০ হাজার মাইল উড়তে হয়।

যা পুরো পৃথিবীকে তিন চক্কর লাগানোর সমান। পুরো বছর মৌমাছির চাকের আশেপাশের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী থাকে ৷ শীতের সময় যখন তাপমাত্রা কমতে থাকে তখন তারা সবাই কাছাকাছি থাকা শুরু করে। যাতে পরিবেশ গরম রাখা যায়। গরমের সময় তারা তাদের পাখা দিয়ে চাকে বাতাস দেয়।

আপনি তাদের চাকের কিছু দূর থেকে এই বাতাস অনুভব করতে পারবেন। একটি মৌমাছি তার সম্পূর্ণ জীবনে এক চামচের ১২ শতাংশ মধু বানাতে পারে ৷ তাদের গড় আয়ু মাত্র ৪৫ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। ছেলে মৌমাছি সহবাসের পরেই মারা যায়। কারন সহবাসের শেষে এদের অন্ডকোষ ফেটে যায়।

ছেলে মৌমাছির কোন পিতা থাকে না শুধু মাত্র মা থাকে। কারন এরা অ্যানফারটিলাইস কোষ দিয়ে তৈরী হয়। আর এটা রানী মৌমাছি কোন নড়ের সাহায্য ছাড়াই একাই তৈরী করতে পারে।

মধুতে সুগারের মাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় এটা চিনি থেকে ২৫ গুন বেশি মিষ্টি হয়ে থাকে। মধু হাজার বছরেও নষ্ট হয় না। এটা একমাত্র খাবার যাতে জীবন যাপনের জন্য সব উপাদান পাওয়া যায়। এতে রয়েছে এনজাইম যা ছাড়া আমরা শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারব না। ভিটামিন, মিনারেল, খনিজ পদার্থ, পানি।

আর মধু একমাত্র খাবার যার মধ্যে একপ্রকার এন্টি অক্সাইড পাওয়া যায়। যা মানুষের মস্তিষ্কের গতিবিধি বাড়াতে পারে। মৌমাছির মধ্যে রানী মৌমাছি ৫-৬ দিন বয়সেই সহবাসের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এরা ছেলে মৌমাছিকে আকৃষ্ট করতে বাতাসে এক প্রকার কেমিকেল ছাড়ে।

যাতে ছেলে মৌমাছি দ্রুত তাদের দিকে ছুটে আসে। তারপর তারা চাকের ভিতর মিলন করে। রানী মৌমাছির বয়স ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এরা একটি চাকের একমাত্র সদস্য যে কিনা ডিম তৈরী করতে পারে। এরা গরমের সময় অনেক ব্যস্ত থাকে। এরা জীবনে একবার ই সহবাস করে আর তাদের মধ্যে এত পরিমান স্পার্ম জমা করে যে, তা দিয়ে সারা জীবন ডিম দিতে পারে। অর্থাৎ প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে তারা একটি ডিম দেয়।

মাত্র ২৮ গ্রাম মধুতে মৌমাছির এত শক্তি হয়ে যায় যে এরা পুরো পৃথিবী ঘুরে আসতে পারে। পৃথিবীতে বসবাস করা সব জীবজন্তুর ভেতরে মৌমাছির ভাষা সব থেকে কঠিন। ১৯৭৩ সালে কাল বোন ক্রিস এদের ভাষা বোঝার জন্য নোবেল পুরুষ্কার পায়। একটি চাকে দুটি রানী মৌমাছি বসবাস করে না।

যদিও থাকে অল্প সময়ের জন্য। কারন যখন দু’জন রানী মৌমাছি একত্রিত হয় তখন তারা বন্ধুত্ব করার পরিবর্তে একে অপরের উপর হামলা করতে শুরু করে। আর তা ততক্ষন চলে যতক্ষন না একজনের মৃত্যু হয়ে যায়। প্রিয় পাঠক মানুষের জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। একদিন হয়তো এই পরিবর্তন শেষ হয়ে যাবে। আর পৃথিবীতে অবস্থিত ৯০% খাদ্যের উপাদান তৈরী করতে মৌমাছির অনেক অবদান রয়েছে।

বাদাম, কাজু, কমলা, পেঁপে, আপেল, কফি, শসা, বেগুন, আঙ্গুর, আম, আলু, নাশপাতি, মরিচ, স্ট্রবেরী, তরমুজের পরাগায়ন মৌমাছির মাধ্যমেই হয়ে থাকে। গম ও ধানের পরাগায়ন এরা বাতাসেই করে ফেলে। এদের মৃত্যুর ফলে অনেক ফসল একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে। এমনকি পৃথিবীতে ঘাস পর্যন্ত জন্মাবেনা। একজন সাইন্টিস্ট বলেছিলেন যদি পৃথিবী থেকে মৌমাছি বিলীন হয়ে যায় তাহলে মানুষ মাত্র চার বছর পৃথিবীতে টিকতে পারবে।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ