যে গুপ্তধন মানুষ আবিস্কার করেছিল দুর্ঘটনাবশত

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

হাজার হাজার বছর আগে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা চোর ডাকাতের হাত থেকে নিজের সম্পদ বাঁচানর জন্য নিজেদের ধন সম্পদ মাটির নীচে পুতে রাখতো বা কোনকিছুর ভিতর লুকিয়ে রাখতো। তাদের মৃত্যুর পর সেই ধনসম্পদ কোথায় রাখা হয়েছে সেই তথ্যও হারিয়ে যেত। 

সেই লুকিয়ে রাখা সম্পদ গুলো আজ গুপ্তধনে পরিনত হয়েছে।  পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এমন গুপ্তধন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এর ভিতর কিছু গুপ্তধন আবার মানুষ আবিস্কার করেছিল দুর্ঘটনাবশত!

এবং তাঁরা হয়ে গিয়েছিলেন প্রচুর সম্পদের মালিক। আজ আমরা আপনাদের জানাব এমন ৫টি গুপ্তধন প্রাপ্তির কথা যা প্রাপ্ত মানুষ গুলোর জীবন বদলে দিয়েছিল।

ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রেজার

এই ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ক্যালিফোর্নিয়ার এক দম্পতি যখন বাড়ির পিছনের বাগানে কুকুর নিয়ে ঘুরছিল তখন গাছের ছায়ায় তাঁরা কিছু একটা দেখতে পান। তারা দেখতে পান সেখানে মাটিতে আবর্জনার মাঝে ছোট একটা বাক্স পরে আছে।

তাঁরা বাক্সটা বের করে আনেন এবং সেটা খুলে তারা অবাক হয়ে যান। সেই বাক্সর ভিতর অনেক গুলো সোনার কয়েন ছিল। তারপর তারা খুঁজে পান আরও পাঁচটি বাক্স। সবমিলিয়ে ১৪২৭ টি সোণার  কয়েন ঐ দম্পতি পেয়েছিলেন। 

স্বর্ণমুদ্রা গুলা ছিল ১৮৪৭ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যকার সময়ের। যার বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকার মত!

আংকেল স্যাম ডায়মন্ড

আপনাদের এমন একটি জায়গার সম্বন্ধে আজ আমি আপনাদের বলবো যেখানে আপনি চাইলেই গুপ্তধনের জন্য খোঁজাখুঁজি করতে পারবেন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে আপনি এখানে পেতে পারেন ডায়মন্ডের দেখা। এট এমেরিকার আরকান্সাস রাজ্যের একটি পার্ক। পার্কটির নাম হচ্ছে ক্রিয়েটর অফ ডায়মন্ড স্টেট পার্ক।

এই পার্কটির আয়তন ৯১১ একর। এটিই পৃথিবীর এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষ চাইলে হীরের খোজ করতে পারে। এখানে যদি কোণ হিরে খুঁজে পান তবে সেই হিরেটা আপনারই হবে। আসলে এই জায়গাটি একটা হিরের খনি। যেট ৯ কোটি পাঁচ লক্ষ বছরের পুরোন একটি আগ্নেয়গিরির একটি অংশ। 

এই জায়গায় ভৌগলিক অবস্থা এমন যে বৃষ্টি হলে মাঝে মাঝে হীরে মাটির উপর উঠে আসে। ১৯০৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ এই স্থান থেকে হীরে খুঁজে পেয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল আংকের স্যাম ডায়মন্ড। 

যা W.O.Basam নামক এক ব্যাক্তি ১৯০৬ সালে পেয়েছিলেন। এর ওজন ছিল ৪০.২৩ ক্যারট।  এটা আজ পর্যন্ত এমেরিকাতে পাওয়া সবচেয়ে বড় হীরে। এই হীরেটা ১৯৭১ সালে বিক্রি হয়েছিল। যার বর্তমান মুল্য ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

দা চাইনিজ বোল

২০০৭ সালের নিউইয়র্কের একটি পরিবারের ভাগ্য সেদিন বদলে গিয়েছিল যেদিন তারা ঘর সাজানর জন্য পুরোন বিক্রির সেল থেকে  একটা বাটি কিনেছিল। আর এটা কেনার জন্য তাদের মাত্র ৩ ডলার খরচ করতে হয়েছিল। 

এই বাটিটা মাত্র ৫ ইঞ্চি বড় ছিল। সেই দম্পতি বাসায় এসে খেয়াল করলেন এই বাটিটা দেখতে বেশ পুরোন লাগছে। তাই তারা একজন এক্সপার্টের কাছে বাটিটা নিয়ে গেল। এটা ১ হাজার বছরের পুরোন একটা ডিম বল। যা চীনের The Northern Song Dynasty (960 – 1127) সময়ের।

তারপর তারা সেই বাটিটিকে নিলামের জন্য একটি নিলাম প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়ে যায়। প্রথমে তারা ভেবেছিল বাটির দাম ২ থেকে ৩ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। কিন্তু বাটিটা বিক্রি হয়েছিল ২.২ মিলিয়ন ডলারে! অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি টাকার উপরে।

সোরোডা ট্রেজার

এই গুপ্তধনটি পাওয়া গিয়েছিল ১৯৮৫ সালে পোল্যান্ডের একটি শহর সরোদা স্লাস্টাতে। এখানে একটি পুরোন বাড়ি ভেঙ্গে নতুন একটি বাড়ি বানানর কাজ শুরু হয়েছিল। সেজন্য এর মাটিতে গভীর গর্ত তৈরি করার কাজ চলছিল। তখন শ্রমিকরা ৩ হাজার রুপোর কয়েন ভর্তি একটি বাক্স পায়। 

কয়েন গুলো ছিল চতুর্দশ শতাবদির। ঠিক ৩ বছর পর ঐ স্থানটির আরেক জায়গায় কাজ চলছিল। সেখানে আরও বিপুল পরিমানে সোনা রুপাসহ মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেল। যার ভিতর হীরে এবং সোণার মুকুট ও ছিল। এই সম্পদের দাম কতো হতে পারে সে সম্পর্কে কেও নিশ্চিত নয় তবে গবেষকরা বলে থাকেন হাজার কোটি টাকার উপর হবে এই সম্পদের মুল্য।

পিয়ানো

১৯৯৬ সালে লন্ডনের দুজন ব্যাক্তি ১০০ বছরের পুরোন একটি পিয়ানো কিনেছিলেন। ২০০৬ সালে তারা একটি কমিউনিটি কলেজে এই পিয়ানটি দান করে দেন। এর কিছুদিন পর পিয়ানোটি নষ্ট হয়ে যায়। ২০১৭ সালে কয়েকজন টেকনিশিয়ান ডাকা হয় পিয়ানোটি ঠিক করার জন্য। 

কিন্তু এটি ঠিক করার সময় এর ভিতর পাওয়া যায় ৯১৩ টি সোনার কয়েন।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ