রহস্যময় এই মহাবিশ্বঃ যেখানে হয় হীরের বৃষ্টি!

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

এই পৃথিবীতে হীরে একটি দামি মূল্যবান বস্তু হলেও মহাকাশের কথা কিন্তু আলাদা। সেখানে যে হীরে পানির মতই সস্তা!! কারন সেখানে হয় হীরের বৃষ্টি। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা ঠিক এমনটাই বলে থাকেন। 

বিজ্ঞানীদের দাবি মহাকাশে এমন অনেক গ্রহ আছে যেখানে পানির মতই  হীরার বৃষ্টি হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে হীরে মূল্যবান বস্তু হলেও মহাকাশে এটি খুব সাধারন পদার্থ। যা প্রচুর পরিমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। 

এগুলো উৎপন্ন হচ্ছে প্রচন্ড চাপ, তাপ, কার্বনের আধিক্যের কারনে। কেননা হীরে তৈরির জন্য এই উপাদান গুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। যা ছড়িয়ে আছে মহাকাশে। 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে মহাকাশে এমন গ্রহও আছে যা পুরোটাই হীরে দিয়ে তৈরি। যেমনটি পৃথিবী তৈরি হয়েছে মাটি দিয়ে। গ্রহ গুলোর হীরের মান এবং গঠন ও কিন্তু আলাদা হয়। অবশ্য সেসব গ্রহের উপাদান মূলত গ্যাসিয়। এই কারনে গ্রহ গুলোতে সহজেই হীরে উৎপন্ন হয়ে থাকে। 

যেমন শনি এবং বৃহস্পতি গ্রহে গ্যাসীয় উপাদান বেশি থাকায় হীরের পরিমান ও বেশি। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ইউরেনাস এবং নেপচুন গ্রহেও প্রচুর পরিমানে হীরার বৃষ্টি হয়ে থাকে। কেননা সেখানকার বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমানে মিথেন রয়েছে।

যা বজ্রপাতের কারনে হাইড্রোজেন এবং কার্বনে রুপান্তরিত হয়। পরে এই উপাদান দুটো প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারনে দ্রবীভূত হয়ে হীরায় পরিনত হয়। হীরায় রূপান্তরিত হওয়ায় সেগুলো প্রচন্ড গতিতে বৃষ্টির মতো গ্রহগুলোর মাটিতে ঝড়ে পরে। 

সম্প্রতি গবেষকরা কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে এমন হীরে তৈরিতে সফল হয়েছেন। অবশ্য মহাকাশে হীরে উৎপন্নের বিষয়টি নতুন নয়। অনেক আগেই বিজ্ঞানীরা মহাজাগতিক হীরের সন্ধান পেয়েছিলেন। অবশ্য সেগুলোর আকার পৃথিবীর আকারের তুলনায় খুবই ছোট। 

সেসব গ্রহানুর মধ্যে পাওয়া হীরের ভিতর মাত্র ৩ ভাগ কার্বনের দেখা পান বিজ্ঞানীরা। যা আদতে ন্যানো ড্যায়মন্ডে পরিনত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারনা হীরার আধিক্য রয়েছে এমন গ্রহ গুলোতে উল্কাপাতের কারনে সেগুলো মহাকাশে ছড়িয়ে পরে। এবং সেসময় কোনো কোনোটির আকার থাকে প্রকান্ড। 

পৃথিবীর মতো গ্রহের বায়ুমন্ডলের সংস্পর্শে এলে সেগুলো জ্বলে ক্ষয় হয়ে অত্যন্ত ছোট আকার ধারন করে। কিন্তু গঠনগত উপাদান একই থাকে। 

পৃথিবীতে এমন একটি উল্কাপাতের ঘটনা ঘটেছিল ২০০৮ সালে। যুক্তরাস্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যে পাওয়া সেই উল্কার ভিতর পাওয়া গিয়েছিল ছোট ছোট ক্ষুদ্রাকৃতির হীরের। সেবার গবেষকরা দাবি করেছিলেন সম্ভবত কোণ কার্বন সমৃদ্ধ তারকা থেকে ছিটকে সেই গ্রহানু মহাকাশে ভেসে পৃথিবীতে চলে এসেছিল। 

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মহাকাশে সাদা বর্নের হীরক সমৃদ্ধ একটি তারকার সন্ধান পেয়েছেন। পৃথিবী থেকে ৯শ আলোকবর্ষ দূরে ওই মৃত নক্ষত্রটি কার্বন এবং অক্সিজেন দিয়ে তৈরি বলে বিজ্ঞানীদের ধারনা। যেটির তাপমাত্রা ২ হাজার ৭শ ডিগ্রী সেলসিয়াস বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এবং সেটি ঠান্ডা হতে নাকি ১১শ কোটি বছর লেগেছে। 

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3546031