হিডেন সিক্রেটস অফ মানি- শেষ পর্ব

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

হিডেন সিক্রেটস অফ মানি- এর তিন পর্বের সিরিজে প্রথম পর্বে আপনাদের জানিয়েছি কীভাবে টাকা এবং ব্যাংক আমাদের সমাজে সৃষ্টি হয়েছে। এবং দ্বিতীয় পর্বে টাকা এবং কারেন্সির মধ্যে পার্থক্য গুলো আপনাদের কাছে শেয়ার করেছি।

আজকের শেষ পর্বে আপনাদের কাছে শেয়ার করবো কিভাবে কারেন্সী তৈরি হয়। তার সাথে আরো বলবো, হিউম্যান হিস্ট্রির কিছু বেইমানদের কথা। যারা আমাদের সাথে প্রতিনিয়ত বেইমানি করে যাচ্ছে৷

শুরুতেই বলে নেয়া ভালো, স্বল্প কয়টি দেশ বাদে পৃথিবীর সব দেশই একই তরিকা মেনে কারেন্সি তৈরি করে।

GOVERNMENT CREAT I.O.U’S:

আমাদের দেশে ইলেকশনের সময়ে নেতারা অযৌক্তিক কথা বলে থাকেন৷ তারা বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে এটা করে দিব, সেটা করে দিব। এটা ফ্রি, সেটাও ফ্রি৷ আর এসব কথা শুনে আমরা খুশি হয়ে তাদেরকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করি৷ 

তাই ইলেকশন জেতার পর সরকারের দেওয়া কথা রক্ষা করার জন্য দেশের ইনকামের তুলনায় বেশি খরচ করতে সিদ্ধান্ত নেয় যেটাকে ডেফিসিট স্পেনডিং বলা হয়। DEFICIT SPENDING= SPENDING MORE THAN COUNTRY’S INCOME. 

যেহেতু দেশের ইনকামের চেয়ে খরচের পরিমাণ বেশি হবার কারণে সরকার কে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকের কাছ হতে লোণ নিতে হয়।

বন্ড কি?

বন্ড একটি কাগজ যেখানে উল্লেখ থাকে, সরকার ব্যাংকের কাছ হতে কোটি কোটি টাকা লোন নিয়েছে। বিনিময়ে সরকার ব্যাংককে ১০ বছর পর সুদ সহ সকল টাকা ফেরত দিবে। আর এই বন্ডই হল দেশের ঋণ। যাকে ন্যাশনাল ডেবট (NATIONAL DEBT) বলা হয়। 

সরকারের এই ঋণ পরিশোধ করছে কারা? এমন প্রশ্ন আপনার আসতেই পারে। উত্তর হচ্ছে, আমি, আপনি, আমরা সাধারন জনগন মিলে এই ঋণ শোধ করি।

সরকার যখন বন্ড তৈরি করে তখন আমরা বলতে পারি আমাদের আজকের অল্প সুবিধার জন্য আমাদের আগামী ভবিষ্যতকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে।

SWAPPING I.O.U’S AND CREATING MONEY:

সরকার প্রথম ট্রেজারি তৈরি করে বন্ড বানায় এরপর সেই বন্ড নিলাম করে। এই বন্ড কেনার জন্য দুনিয়ার বড় বড় ব্যাংক গুলো নিলামে অংশ নেয় এবং ট্রেজারির কাছ থেকে এই বন্ড কিনে নিয়ে লাভজনক ব্যবসায়ে পরিনত করে। বন্ড কেনার পর ব্যাংক এই বন্ড নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ এর কাছে যায় এবং ফেডারেল রিজার্ভ চেক ইস্যু করে ব্যাংকে দিয়ে দেয়৷

এখানে বলে নেয়া ভালো, ফেডারেল রিজার্ভের কাছে সঞ্চিত কোন টাকা থাকে না। এমনকি তাদের একাউন্ট সব সময় জিরো ব্যালেন্স থাকে। কিন্তু তারা চেক ইস্যু করার পর অটোমেটিক টাকা তৈরি হয়ে যায়। এরপর ওই চেক ব্যাংকের কাছে এলে ব্যাংক আবার সেই টাকা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে নতুন আরেকটি বন্ড কিনে নেয়।

এইভাবে এই চক্রটি চলমান থাকে৷ এখানে ট্রেজারি এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককে মাধ্যম বানিয়ে এই কাজগুলো সম্পন্ন করে এবং প্রত্যেকটা স্টেপে ব্যাংক কমিশন পায়। এভাবে ধনীরা ধনী হয়। আর দেশ ও তার সাধারণ জনগণ ধীরে ধীরে শুন্য হতে থাকে জাতীয়( NATIONAL DEBT)  ঋণের কারণে।

সিক্রেটস অফ মানি

GOVERNMENT SPENDS NUMBER’S:

ট্রেজারি কাছে নগদ টাকা আসার পর এই টাকা সরকারকে প্রদান করে এবং সরকার এই টাকা DIFICIT SPENDING, দেশের উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রোগ্রামের, এবং যুদ্ধের পেছনে খরচ করে৷ এই টাকা আবার চলে আসে সরকারি চাকরিজীবীদের পকেটে, কনট্রাকটরদের পকেটে এবং সৈনিকদের পকেটে। আবার এই টাকা কোন না কোন ব্যাংকে তারা ডিপোজিট করে। 

এখানে আরো একটি কথা বলে রাখা দরকার, আপনি ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে শুধুমাত্র টাকা জমিয়ে রাখার জন্যই টাকা ব্যাংকে জমা রাখেন না। আসলে আপনিও ব্যাংক কে টাকা ধার দেন৷ যা দিয়ে ব্যাংক লিগ্যালি অনেক কিছু করে। যেমন স্টক কেনা এর একটি অন্যতম। অথবা দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুদের বিনিময়ে লোন দিতে পারে।

BANKS MULTIPLY THE MONEY:

এখনকার দিনের সব ব্যাংক Fractional reserve banking এর হয়ে কাজ করে। ধরুন, আপনি কোন ব্যাংকে ১০০ টাকার ১০% সুদের বিনিময় জমা রাখেন। এর মধ্যে ব্যাংক শুধু মাত্র ১০ টাকার ১০% সুদে নিজের কাছে রেখে বাকী ৯০ টাকা আরেকজনকে সুদের বিনিময়ে লোন দেয় আপনাকে না জানিয়েI

এখানে ব্যাংক নিজের কাছে ১০ টাকা রাখে। কারণ, আপনার টাকা দরকার হলে ব্যাংক যেন কিছু টাকা সাথে সাথে দিতে পারে। একে ব্যাংকের ভাষায় ‘ভোল্ট ক্যাশ’ বলা হয়৷ বাকি ৯০ টাকা অন্য কাউকে লোন দেয়ার পরেও আপনার একাউন্টে ১০০ টাকা দেখতে পান কেনো? উত্তর হল, ব্যাংকের ১০০ টাকা নিজের কাছে I.O.U করে রাখে। আরো যদি সহজ ভাবে বললে, এ আর কিছু নয়। ব্যাংক শুধু আপনার এ্যাকাউন্টে কিছু নাম্বার টাইপ করে রাখে।

এটা কারেন্সিই থাকে যেটার কারণে ব্যাংকে ১০০ টাকার স্থানে ১৯০ টাকার অস্তিত্ব চলে আসে৷ ১০০ টাকা আপনার আর বাকি ৯০ টাকা যেটা ব্যাংক ইনভেস্ট করে। এভাবেই ব্যাংক ৯০ টাকা লাভ করে আর এটির উপর যে সুদ আছে তার হিসাব তো আলাদা।

আবার ধরে নিলাম ব্যাংক কাউকে লোন দিলো। যে লোন নিলো সে ৯০ টাকার ইনভেস্ট করল৷ সাধারণভাবে আমরা লোন নিয়ে বাড়ি অথবা গাড়ি ক্রয় করি৷ এভাবে ৯০ টাকা চলে যায় আরেকজনের কাছে। সে ব্যক্তি আবার এই টাকা কোন না কোন ব্যাংকে ডিপোজিট করে৷ সেই ব্যাংক আবার ১০% রেখে বাকি ৯০% আরেকজনকে লোন দেয়। এভাবে একটি ব্যাংক ২৭০ টাকার জন্ম দেয়। এমনটা রিপিট হতেই থাকে৷ এক সময়ে ব্যাংক আপনার সেই ১০০ টাকা দিয়ে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে৷ দেশের ৯০-৯৬% কারেন্সি এভাবে তৈরি হচ্ছে৷ যেটা ব্যাংক শুধু টাইপ করে তৈরি করে।

আপনি বলতে পারেন তাতে আমাদের কি আসে যায়?

অনেক কিছুই আসে যায় আমাদের৷ কারণ, দেশের কারেন্সি সাপ্লাই বাড়ার কারণে আপনার টাকার ভ্যালু কমে যাচ্ছে। যার সাথে জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। কারণ, কারেন্সির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ।

আমরা সব সময় আরেকটি কথা ভাবি যে, আমাদের টাকা ব্যাংকে সেইফ আছে। আমরা যখন চাইবো টাকা তুলতে পারব৷ আপনার এই ধারণা সঠিক নয়। আমরা যদি ২০-৩০% মানুষ একসাথে ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক আমাদের সবাইকে সব টাকা ফেরত দিতে পারবে না। কারণ ব্যাংকের কাছে পুরো টাকা থাকেনা একটু আগেই বলেছি৷ 

FRACTIONAL RESERVE সিস্টেমের কারনে এমনটা হচ্ছে। যেখানে টাকা I.O.U. মিডিয়াম এর মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে। বেশীরভাগ তৈরি হয় কম্পিউটারে টাইপ করে। এই সিস্টেম আর কিছু নয়, শুধুমাত্র SUPPLY OF NUMBER’S. কিছু প্রিন্ট এর মাধ্যমে আর কিছু টাইপ এর মাধ্যমে।

OUR NUMBERS OUR TEXED

আপনার যদি মনে হয় আমাদের সাথে যা হচ্ছে তা ঠিক নয় তাহলে আরো বোকা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ এই নাম্বারের জন্য দিনরাত একাকার করে কাজ করছে। আমরাই এ সিস্টেম টা কে মূল্যবান করে ফেলছি।

তারপরে কষ্ট করে আমরা সেগুলি কে জমিয়ে রাখছি যাতে সরকার সেখান থেকে একটা বড় অংশ সুদসহ ঋণ শোধ করতে পারে। আমাদের বেশিরভাগ ট্যাক্স নিজেদের ডেভলপমেন্টের জন্য ব্যয় হয় না৷ ব্যয় হয় ঋণ পরিশোধের জন্য৷ আর টোটাল টাকাটা চলে যায় সিস্টেমের মালিকের কাছে।

এই বড় সিক্রেটের এর মালিক কে?

সূত্র: GUIDE TO INVESTING IN GOLD AND SILVER- MICHAEL MALONEY

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ