হিডেন সিক্রেটস অফ মানি- ২য় পার্ট

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

হিডেন সিক্রেটস অফ মানি- এর প্রথম পার্টে আমরা জেনেছি কীভাবে টাকা এবং ব্যাংক আমাদের সমাজে সৃষ্টি হয়েছে। আজকের এই পর্বে আমরা জানবো টাকা এবং কারেন্সির মধ্যে কি কি পার্থক্য রয়েছে। এবং এই বিষয়ে আমাদের জানা কেনো ভীষণ জরুরী।

কারেন্সি ইজ অ্যা মিডিয়াম অফ এক্সচেঞ্জ। যা আমি, আপনি পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারবো। পোর্টেবল, ডিউরেবল, ডিভিজি বল মানে আপনার পকেট ১০০ কারেন্সি আছে আমার পকেটেও ১০০ কারেন্সি আছে। আপনি সেই ১০০ কারেন্সি দিয়ে যা কিনতে পারবেন আমিও ১০০ কারেন্সি দিয়ে একই জিনিস কিনতে পারব।

আর টাকা হচ্ছে, একজন মানুষের সমস্ত সম্পদ৷ এটাও পোর্টেবল, ডিউরেবল, ডিভিজি বল।  কারেন্সি এবং টাকার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল টাকা নিজের মধ্যে কিছু ভ্যালু ধারণ করে যা হাজার হাজার বছর ধরে এক্সিস্ট করে৷

উদাহরণস্বরূপ, ১০০ বছর পূর্বের “FIAT CURRENCY” সিস্টেম এখন আর সচল নেই৷ কিন্তু স্বর্ণ এবং রৌপ্য যা টাকার আরেক ফর্ম যার মূল্য ৫০০০ বছর ধরে চলে আসছে এবং এর আপিল এত বছর পরেও একটু কমেনি৷ কারেন্সি একটি কাগজের টুকরা যা সরকার যেকোনো সময়ে যত খুশি মেশিনে প্রিন্ট করতে পারে। কিন্তু স্বর্ণ বা রৌপ্যে সরকার চাইলে তৈরি করতে পারে না৷

হিডেন সিক্রেটস অফ মানি

সরকার ও ব্যাংক মিলে যত ইচ্ছা কারেন্সি তৈরি করে মার্কেটে ছাড়তে পারে। এখন আপনার মনে হতে পারে, যত টাকা ছাপাবে ততই তো ভালো৷

তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। কারণ মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ হলো দেশের মোট সম্পদের তুলনায় মোট কারেন্সির পরিমাণ বেশি হয়ে যাওয়া ৷ যে দেশে কারেন্সি যত বেশি সেদেশে জিনিসপত্রের দাম তত বেশি৷ ধরা যাক একটি কারেন্সি হলো সুইমিংপুল এবং এর উপরে রাখা হয়েছে একটি স্পঞ্জ। এখন স্পঞ্জ কে যদি দ্রব্যমূল্য ধরা হয় তাহলে কারেন্সি নামক সুইমিংপুল যত বাড়বে স্পঞ্জও তার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে মানে দ্রব্যমূল্য বাড়বে।

এটাই নিয়ম ৷ “FIAT CURRENCY” এর এই খেলা ব্যাংকের কনফিডেন্স এবং আমাদের জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে এতদিন ধরে চলে আসতেছে৷ কারণ ব্যাংক তো আমাদের কাছে গোপন করে না এমনকি তারা খোলাখুলিভাবে বলে যে “THIS IS A FIAT CURRENCY” মানে হল এর মধ্যে কোন সোনা রাখা হয়নি। কিন্তু আমরা এ কথার অর্থ বুঝতে পারি না৷ উল্টো আমরা সেই রশিদ টাকে অথবা চেক টাকে জীবনের চেয়েও বেশি মূল্য দিয়ে আঁকড়ে ধরে থাকি৷ অথচ সেই রশিদ এর মূল্য দিনকে দিন কমতে থাকে মুদ্রাস্ফীতির কারণে৷

তাহলে আমাদের করণীয় কি হতে পারে?

  1. টাকা, কারেন্সি এবং টাকার গোপন তথ্য গুলো নিজে বুঝে আপনার পাশে থাকা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া৷ ১০ লাখের মধ্যে একজন মানুষ যদি এই বিষয়ে বুঝতে পারে তাহলে কিছুটা হলেও আমরা এই সিস্টেম থেকে বের হওয়ার একটা সুযোগ তৈরি করতে পারব৷
  2. চাকরির চেয়ে ব্যবসা করার কথা চিন্তা বেশি করতে হবে। নিজে ধনী হতে হবে। নিজের জন্য নয় অপরের জন্য। কারণ ব্যবসা দিয়েই কেবল এই সিস্টেমের বিরুদ্ধে অনেক “LOOP HOLES” পাওয়া সম্ভব। চাকরি করে যা পাওয়া সম্ভব নয়।
  3. টাকার পরিবর্তে স্বর্ণ ও রুপা ইনভেস্ট হিসেবে রাখুন। কারণ এই দুটি হচ্ছে আসল টাকা। যা নিজের মধ্যে ক্রয় ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে ধারণ করতে পারে।

আমরা জানি, একটা দেশে যত সোনার মজুদ থাকবে সে দেশ তত টাকা বানাতে পারবে। কিন্তু এই গোল্ড রিজার্ভ সিস্টেম অনেক আগেই রহিত হয়ে গেছে৷ সব দেশ এখন  “FIAT CURRENCY” সিস্টেমে চলে। যখন থেকে গোল্ড ব্যাংক কারেন্সি এর সিস্টেম শুরু হয় তখন থেকেই ধোঁকাবাজি শুরু হয়।

হিডেন সিক্রেটস অফ মানি এর তৃতীয় এবং সর্বশেষ পার্টে আমরা জানবো, কিভাবে কারেন্সী তৈরি হয়। এবং তার সাথে আরো জানতে পারবো, ইতিহাসের কিছু বেঈমানদের কাজের উদাহরণ। যারা আমাদের সাথে প্রতিনিয়ত বেঈমানি করছে। যার ফলে আমি, আপনি, আমরা সকলেই এখন ভুক্তভোগী।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ