হিডেন সিক্রেটস অফ মানি

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest

টাকা, মানি, ডলার, ইউরো, রুপী।

এর সাথে আমার, আপনার, সবার সাথে পরিচয় রয়েছে। এবং আমি, আপনি আমরা সবাই টাকা কে ঘিরে কোনো না কোনো সমস্যায় জড়িত আছি। শুধু আমরা বাংলাদেশীরাই নই, পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মানুষই আমাদের মতন একই সমস্যায় জর্জরিত। আর টাকার হিডেন সিক্রেটস আমরা কয়জনই বা জানি!

প্রতিদিন দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। বেড়েই চলবে। সল্পমুল্যে বেতনে চাকরী করা একজন ব্যক্তির পুরো মাসের বেতনের টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য খাবার বহন করতে পারবেন না। আর অপরদিকে আমাদের সাথে বসবাস করা ধনীরা ধনী হচ্ছে।

কেনো?

আমরা জানিনা এর কারণ | এমনকি এখান থেকে বাঁচতে আমাদের করনীয় গুলো কী। এই বিষয়ে আমাদের জানার অভাব রয়েছে। একারণেই, আমরা সিস্টেমের কাছে বন্ধী হয়ে আছি।

বন্ধী হতে মুক্ত হতে হলে আমাদের মানি মনিটরিং সিস্টেম এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিকস সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ টাকা নিয়ে হিডেন সিক্রেটস না জানার কারণে আমাদের সমাজে নেগেটিভ প্রভাব পড়ছে এবং সামনে আরো কঠিন সময় পাড় করতে হবে আমাদের।

এ জন্যই আপনার, আমার, আমাদের সবাইকে টাকার হিডেন সিক্রেটস সম্পর্কে জানতে হবে। এই বিষয়টির পরিধি অনেক বড়। এক আর্টিকেলের মধ্যে এত বড় বিষয়টি শেষ করা সম্ভব নয়। তাই ‘ ‘হিডেন সিক্রেটস অফ মানি’ তিন আর্টিকেলে শেষ করা হবে। আমার বিশ্বাস, সব গুলো আর্টিকেলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন, যার সাহায্যে আগামীর হিডেন বিপদ গুলো থেকে পাড়ি দিতে একটু হলেও সাহায্য করবে।

হিডেন সিক্রেটস অফ মানি

হিডেন সিক্রেটস

যেভাবে ব্যাংক এবং টাকা তৈরি হলো।

আমাদের জীবনের মূল সম্পদ হচ্ছে সময় এবং স্বাধীনতা। যা আজ বৈধভাবে চুরি হয়ে হচ্ছে খুব সহজে। যদি বলেন, এটা কী আদৌ সম্ভব? তাহলে সবার আগে আমাদের টাকা সম্পর্কে জানতে হবে৷

আদিযুগে মানুষ লেনদেনের জন্য একটা জিনিস কিনতে হলে আরেকটা জিনিস দিতে হতো। যেমন, আমার কাছে একটা মুরগি আছে। আর আপনার কাছে রয়েছে চাউল। তো আমি আপনাকে মুরগি দিব, তার বিনিময়ে আপনি আমাকে চাউল দিবেন।

লেনদেনের জন্য এই পদ্ধতি বেশীদিন চালু থাকেনি। যার মানুষ লেনদেনের জন্য নতুন আইডিয়া চালু করলো। সে সময়ে মানুষ জানতো স্বর্ণ এবং রুপা খুবই দামি জিনিস। সহজে পাওয়া যায় না বলে৷ এবং পরবর্তীতে মানুষ সোনা এবং রুপার মাধ্যমে মুদ্রা তৈরি করে ব্যবসা বাণিজ্য লেনদেন করতো৷

সকলের কাছে এই পদ্ধতি ভালো লাগলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার নতুন সমস্যার জন্ম নেয়। তা হল, অধিক পরিমাণে স্বর্ণ মুদ্রা একসাথে কোন জায়গায় বহন করা যায় না। প্রথম কারণ ছিল, চুরি ডাকাতির। দ্বিতীয় কারণ ছিল, ধাতব মুদ্রা অতিরিক্ত ভারি। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ আবার নতুন সমাধানের খোঁজ করে।

একটা সময় কিছু লোক একটা সিস্টেম তৈরি করে একটা ব্যবসা শুরু করলো৷ ওরা লোকদের বলতে থাকলো, তোমাদের স্বর্ন আমাদের কাছে রাখ আমরা তোমাদের স্বর্ন পাহারা দিয়ে রাখব। বিনিময়ে আমরা সামান্য ফি তোমাদের কাছ হতে নিব।

এই আইডিয়া সবার খুব ভালো লাগে এবং সবার কাছে থাকা সকল স্বর্ণমুদ্রা তাদের  কাছে রাখা শুরু করে। বিমিনয়ে সাধারন মানুষকে I.O.U দিত। I.O.U মানে “I Owe You”। সহজ করে বললে, কাগজে লেখা থাকত, “আমাদের কাছে আপনার এতগুলো স্বর্ণমুদ্রা রয়েছে। বিনিময়ে আমরা আপনার কাছে এত টাকা পাই”।

সাধারণভাবে এই কাগজকে রশিদ বলতে পারেন৷ যা দেখিয়ে ওই লোকজন যে কোন সময় তাদের জমাকৃত স্বর্ণমুদ্রা ফেরত নিতে পারত৷ সবাই খুশি।

এই সিস্টেমটি খুব ভালোভাবে চলতে শুরু করলো। কিছুদিন যাওয়ার পর স্বর্ণ রক্ষিতরা খেয়াল করতে লাগলো যে, তাদের কাছে যারা স্বর্ণ রেখে গেছে তারা স্বর্ণ নিতে আসতো না।

সবাই ঐ স্বর্ণ রাখার রশিদ দিয়ে ব্যবসা করত। কারণ, সবার জানা ছিল যে রশিদ যেহেতু আমার কাছে আছে তাহলে স্বর্ণ গুলো অবশ্যই আমি পাবো। এবং তাদের কাছেই স্বর্ণ গুলো আছে। এই ব্যাপারটি দেখে স্বর্ণ রক্ষকরা নতুন একটি সিদ্ধান্ত নিল তাদের বেশি আয় করার জন্য। যেহেতু ওরাই এই রশিদ তৈরি করেছে। তাই রক্ষকরা নতুন করে ভুয়া রশিদ তৈরি করতে লাগলো। অনেক অনেক ভুয়া স্বর্ণের রশিদ।

একদিকে স্বর্ণ রক্ষকদের কাছে নিজস্ব কোন স্বর্ণ নেই, অপরদিকে ভুয়া রশিদ তৈরি করে গরীব মানুষদের লোন দেওয়া শুরু করে এবং তা থেকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের ভিত্তিতে সুদ নিতে শুরু নিত। এভাবে স্বর্ণ রক্ষকরদের মন মত রশিদ বানাত আর অপরের সময় স্বাধীনতা ছিনিয়ে সুদের ব্যবসা করত।

এভাবে শুরু হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চুরির৷ এবং ওই স্বর্ণ রক্ষকদের দোকান বা অফিস ছিল পৃথিবীর প্রথম ব্যাংক আর রশিদ ছিল পৃথিবীর প্রথম কারেন্সি।

আজ পুরো বিশ্বজুড়ে যে সংকট দেখা দিয়েছে তার অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে, আমরা কারেন্সি এবং টাকার মধ্যে পার্থক্য জানিনা বলে। অনেক মানুষ জানে কারেন্সি এবং টাকা দুটো এক জিনিস। আসলে কারেন্সি এবং টাকার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

পৃথিবীর প্রথম ব্যাংক তৈরি হবার গল্প কী আপনার জানা ছিলো? কিংবা কীভাবে টাকা তৈরি হলো? আপনি যেভাবে জানেন তা আমাদের সবার সাথে শেয়ার করবেন কমেন্টে। কারণ, টাকার হিডেন সিক্রেটস গুলো জানতে গিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবো।

তবে, কারেন্সি এবং টাকার মধ্যে পার্থক্য গুলো পরবর্তী লেখায় আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। তার মধ্যে আপনি চাইলে, করোনাভাইরাস কে নিয়ে একটি পজিটিভ বিষয় নিয়ে পড়তে পারেন।

Subscribe to our Newsletter

সম্পর্কিত আরো লেখা সমূহ